ইউক্রেনের ওপর বড় ধরনের হামলার শঙ্কা, প্রস্তুত রাশিয়া

0
220

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। পাল্টা আক্রমণে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। কিয়েভজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ। বুধবার সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ইউক্রেনে বড় ধরনের বিমান হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে কিয়েভে দূতাবাস কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এক নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “দূতাবাস কর্মীদের চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং হামলার সতর্কতা জারি হলে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

হামলার আশঙ্কায় ইতালি, স্পেন ও গ্রিসসহ ইউরোপের তিন দেশও তাদের দূতাবাস বন্ধ রেখেছে। এতে ইউক্রেনজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

বুধবার ভোরে কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলা চালানো হয়। কিয়েভ সিটি মিলিটারি প্রশাসনের প্রধান সেরহি পপকো জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শহরের ডনিপ্রোভস্কি এলাকায় পড়েছে। এতে একটি বহুতল ভবনে আগুন ধরে যায়।

সম্প্রতি রুশ ড্রোন হামলায় কিয়েভে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আঘাত হানায় ইউক্রেনজুড়ে ব্ল্যাকআউট দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে অ্যান্টিপারসোনেল ল্যান্ডমাইনসহ দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। যদিও বেসামরিক ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে বাইডেনের সিদ্ধান্তকে সমালোচকরা ‘বেপরোয়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। রাশিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, “মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ায় হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”

রাশিয়া ভ্রাম্যমাণ পারমাণবিক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেছে। ‘কেইউবিএম’ নামে পরিচিত এই কেন্দ্রগুলো পারমাণবিক বিস্ফোরণ ও অন্যান্য বিপর্যয় থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। তবে বর্তমান সংকটের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন অস্ত্র সহায়তা, রুশ হামলা, ও পারমাণবিক প্রস্তুতি—সবকিছু মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের আক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here