বুলগেরিয়ার স্টারা জাগোরা শহরে প্রতি বছর বসে একটি অদ্ভুত এবং বিতর্কিত বাজার, যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘জিপসি বিয়ে বাজার’ নামে। এখানে কোনো পণ্য বা সদাইপাতি নয়, প্রদর্শিত হয় তরুণী মেয়েরা। কালাইজ্জি রোমা সম্প্রদায়ের এই বাজারে মেয়েদের কুমারীত্বকে গুরুত্ব দিয়ে দরদাম করেন সম্ভাব্য বররা।
কালাইজ্জি রোমা সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহ-প্রথা নিয়ে ইউরোপজুড়ে কৌতূহল এবং সমালোচনা রয়েছে। এই সম্প্রদায়ের প্রায় ১৮ হাজার সদস্য বুলগেরিয়ায় বাস করেন। এখানে ডেটিং বা বাইরের বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে এই বিয়ে বাজারই তাদের জন্য একমাত্র মাধ্যম যেখানে তরুণ-তরুণীরা নিজেদের জন্য জীবনসঙ্গী খুঁজে নিতে পারে।
বিয়ের বাজারে মেয়েদের সৌন্দর্য, গয়না, এবং কুমারীত্বের ভিত্তিতে তাদের মূল্য নির্ধারিত হয়। একজন তরুণী কনের জন্য বরপক্ষকে গুনতে হয় গড়ে ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১১ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। অত্যন্ত সুন্দরীদের ক্ষেত্রে এই মূল্য ২১ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।
বুলগেরিয়ার নৃতাত্ত্বিক গবেষক ভেলচো ক্রুসটেভের মতে, বর পক্ষ মেয়েদের ‘কুমারীত্বের’ জন্য অর্থ প্রদান করে এবং এই বড় অংকের অর্থ কনেকে নতুন পরিবারে মর্যাদা দেয়ার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
কালাইজ্জি রোমাদের এই প্রথায় মেয়েদের কুমারী থাকার শর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ মেয়েকে ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের আগে তাদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সীমিত, এবং একাদশ শ্রেণীর পর তারা সাধারণত পড়াশোনা ছেড়ে দেয়।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কালাইজ্জি রোমা মেয়েদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে। কালাইজ্জি মেয়েদের জন্য বিয়ে শুধুমাত্র পারিবারিক দায়িত্ব নয়, এটি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নারীদের এমনভাবে সম্পত্তির মতো ‘বিক্রি’ এবং ‘কেনা’ করার বিষয়টি নিয়ে ইউরোপজুড়ে বিতর্ক রয়েছে। যদিও কালাইজ্জি সম্প্রদায় এটি তাদের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ধরে রেখেছে, আধুনিক সমাজে এটি নারীদের অধিকার এবং মর্যাদার জন্য একটি বড় প্রশ্ন তুলেছে।
বিয়ের বাজারের মতো প্রথা কালাইজ্জি রোমাদের ঐতিহ্যের পরিচায়ক হলেও এটি নারীদের ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সমতার বিরুদ্ধে অবস্থান করে। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সময়ের সঙ্গে এই প্রথার পরিবর্তন বা বিলুপ্তি প্রয়োজন।

