ঐতিহাসিক স্থাপনা ষাটগম্বুজ মসজিদ

মসজিদটির ছাদে ৭৭টি ছোট গম্বুজ এবং চার কোণায় ৪টি বড় গম্বুজ রয়েছে। তবে স্থানীয় মানুষ এটিকে ষাটগম্বুজ মসজিদ বলে ডাকে, যা ঐতিহ্যগত নামকরণের একটি দৃষ্টান্ত।

0
297

সুলতানী আমলের অন্যতম প্রতীকী স্থাপত্য ষাটগম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নে অবস্থিত। ১৯৮৫ সালে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। মসজিদটি শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, বরং ইতিহাস ও স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন।

১৫শ শতাব্দীতে খান জাহান আলী, বাংলার সুলতানate-এর একজন বিশিষ্ট শাসক ও ধর্মপ্রচারক, মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটি ছিল তাঁর প্রশাসনিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র। মসজিদটি প্রায় ৮,০০০ স্কোয়ার মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর স্থাপত্যে ব্যবহৃত টেরাকোটা, পাথর, এবং চুন-সুরকির মিশ্রণ মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্যকলার অনন্য উদাহরণ।

মসজিদটির ছাদে ৭৭টি ছোট গম্বুজ এবং চার কোণায় ৪টি বড় গম্বুজ রয়েছে। তবে স্থানীয় মানুষ এটিকে ষাটগম্বুজ মসজিদ বলে ডাকে, যা ঐতিহ্যগত নামকরণের একটি দৃষ্টান্ত।

মসজিদের ছাদের গম্বুজগুলো মসজিদটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। এছাড়া, মসজিদের অভ্যন্তরে ৬০টি স্তম্ভ রয়েছে যা ছাদ ও গম্বুজকে সমর্থন করে। মসজিদের প্রধান প্রার্থনা হল অত্যন্ত প্রশস্ত। আর মসজিদের দরজা, জানালা, এবং দেয়ালে চমৎকার খোদাই করা নকশা যা দেখলে যে কারো মন জুড়িয়ে যাবে।

ষাটগম্বুজ মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়; এটি সুলতানী আমলের সমাজ, সংস্কৃতি, এবং ইসলামি স্থাপত্যের এক অমূল্য দলিল।

ষাটগম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এটি পর্যটক এবং ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। তবে এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংরক্ষণে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here