সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে এখন থেকে নির্দিষ্ট অ্যাপে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবিনা রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের জন্য পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি অ্যাপ থেকে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হবে। শুধুমাত্র এই পাসধারী পর্যটকরাই অনুমোদিত জাহাজে ভ্রমণ করতে পারবেন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্টদের কাছে অফিস আদেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভ্রমণের জন্য বেশ কিছু নতুন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। এসব নিয়মে বলা হয়েছে, জাহাজে কোনো নিষিদ্ধ পলিথিন বা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না। এছাড়া, পর্যটকদের হোটেল বুকিং সংক্রান্ত তথ্য রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেন্টমার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কমিটিতে পরিবেশ অধিদপ্তর, ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ, কোস্টগার্ড এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা অফিস সার্বিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে। কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছরে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে, নভেম্বর মাসে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ক্ষেত্রে আরেকটি নতুন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। দ্বীপে যাওয়া পর্যটকদের একই দিন ফিরে আসতে হবে, রাতযাপনের অনুমতি থাকবে না।

