ইসলাম পণ্যদ্রব্যকে তার যথাযথ ভোক্তার কাছে হস্তান্তরে বদ্ধপরিকর। সে ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের শোষণের অবকাশ না থাকে সেদিকে দৃষ্টি রেখেছে ইসলাম। কারণ যদি এমনটি হয়, তাহলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের যে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তা ছাড়া এগুলো প্রতারণারও অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামী শরিয়ত প্রতারণার মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির সব পদ্ধতিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। যেমন—মজুদদারি ও কালোবাজারি।
মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য আটকে রেখে অস্বাভাবিকভাবে মুনাফা হাসিল করাকে ইসলামের পরিভাষায় ইহতিকার বা মজুদদারি বলে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) মজুদদারের সংজ্ঞায় বলেন, মজুদদার সেই ব্যক্তি, যে মানুষের প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সংগ্রহ করে তার মূল্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আটক করে রাখে এবং সে এ কাজে ক্রেতাদের প্রতি জুলুম করে। মজুদদারির ফলে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ক্ষুণ্ন হয়, এ জন্য শরিয়তে একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মহানবী (সা.) মজুদদারকে পাপী ও অভিশপ্ত বলেছেন। সহিহ মুসলিম শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘পণ্যদ্রব্য আটক করে অধিক মূল্যে বিক্রয়কারী অবশ্যই পাপী।’
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আমদানিকারক রিজিকপ্রাপ্ত হয়, আর মজুদদার হয় অভিশপ্ত।’ গুদামজাতকরণের ব্যাপারটি যদি বিচারকের কাছে পেশ করা হয়, তিনি গুদামজাতকারীকে আদেশ করবেন যেন সে তার এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় পরিমাণ খোরাকি রেখে উদ্বৃতাংশ বিক্রয় করে দেয়।
আর তাকে গুদামজাত করতে নিষেধ করবেন। যদি দ্বিতীয়বার এই মোকদ্দমা বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হয়, তবে তিনি তাকে কয়েদ করে রাখবেন। আর তা থেকে বিরত রাখতে এবং জনগণের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে যত দূর প্রয়োজন শাস্তি প্রদান করবেন। (আল হিদায়া)
তবে যা খাদ্যশস্য নয় এবং যা জীবনধারণের মূল উপকরণ নয়, যেমন—ওষুধ, ভেষজদ্রব্য, জাফরান এবং এই প্রকার দ্রব্যসামগ্রী মজুদ করা নিষিদ্ধ নয়। (ইমাম গাজালি, এহইয়াউ উলুমুদ্দিন)

