শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ড ঘিরে উত্তপ্ত হয়েছে কানাডা-ভারত সম্পর্ক। কানাডা থেকে ছয়জন ভারতীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করার পরও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহিংসতায় জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে অটোয়া।
বৃহস্পতিবার রাতে কানাডার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর গোয়েন্দাবিষয়ক উপদেষ্টা নাতালি ড্রোইন স্পষ্ট করেন, কানাডার মাটিতে নরেন্দ্র মোদি, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ তাদের হাতে নেই।
তবে গত মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অভিযুক্ত করে একটি বিবৃতি দেয় কানাডা। এতে দাবি করা হয়েছিল, অমিত শাহ কানাডায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। কানাডা তখন জানায়, ২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে।
সম্প্রতি কানাডার সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল দাবি করে, দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মনে করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি কানাডায় সহিংস পরিকল্পনার বিষয়ে জানতেন। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও অবগত ছিলেন।
নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কানাডা চারজন ভারতীয় নাগরিককে অভিযুক্ত করেছে। তবে ভারত এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং নিজেদের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, কানাডায় শিখ সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে, যাদের অনেকে ভারতের পাঞ্জাব থেকে একটি স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভারত।
ভারত-কানাডা সম্পর্কের এই সংকট শিখ সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।

