নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: নজিরবিহীন পদক্ষেপ

আইসিসির ২২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো পশ্চিমা মিত্র দেশের উচ্চপদস্থ নেতার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

0
199

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার-১-এর বিচারকদের প্যানেল এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইসিসির ২২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো পশ্চিমা মিত্র দেশের উচ্চপদস্থ নেতার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। দীর্ঘ বিলম্বের পর গত ২১ নভেম্বর আইসিসি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। অনেকের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছিল।

আইসিসির যে তিন বিচারক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা হলেন:নিকোলাস গুইয়ু (ফ্রান্স): প্রি-ট্রায়াল চেম্বার-১-এর সভাপতি, রেইন আলাপিনি-গানসু (বেনিন): আইসিসির দ্বিতীয় সহ-সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ, বেটি হোহলার (স্লোভেনিয়া): মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ে অভিজ্ঞ বিচারক। এই বিচারকদের রোম স্ট্যাটিউটের আওতাভুক্ত দেশগুলো মনোনীত করে। তারা সাধারণত নয় বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন এবং তাদের নির্বাচন নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে হয়।

ইসরায়েল এই পদক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করলেও এটিকে একটি আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে মেনে নিয়েছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আইসিসির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইসিসির এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আইসিসির সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে এটি আন্তর্জাতিক অপরাধের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here