লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি ভূখণ্ডে একদিনে তিন শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই সোমবার (২৫ নভেম্বর) এই হামলা হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
হিজবুল্লাহ জানায়, তারা প্রথমবারের মতো দক্ষিণ ইসরায়েলের আশদোদ নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও স্ট্রাইক ড্রোন ব্যবহার করে তেল আবিবের একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মতে, লেবানন থেকে নিক্ষেপ করা প্রায় ২৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো হয়েছে। পরে ইসরায়েলি রেডিও জানায়, মোট ৩৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যা ১১ জন আহতের কারণ হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী তেল আবিব ও উত্তরাঞ্চলে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বাজিয়েছে এবং পাল্টা অভিযান চালিয়েছে।
এর আগে, ইসরায়েলের হামলায় মধ্য বৈরুতে ২৯ জন নিহত ও ৬৬ জন আহত হয় বলে লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। লেবাননের সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননের আল-আমরিয়াহ এলাকায় এক সেনা নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি ইসরায়েলের এই হামলাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি যুদ্ধবিরতির সব প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করার সরাসরি বার্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন দূত আমোস হোচস্টেইন এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি লেবানিজ সেনা নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী জানায়, তারা বেসামরিক জনগণকে সহায়তা করতে চেষ্টা করলেও সেখানেও ইসরায়েলের আঘাত অব্যাহত রয়েছে।
এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

