পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তার দল পাকিস্তান-তেহরিক-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থকরা জীবন-মরণের লড়াইয়ে নেমেছে। ইসলামাবাদের ডি-চক এলাকায় বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে সংঘর্ষে। সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল উপেক্ষা করে পিটিআই সমর্থকরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার ইসলামাবাদের প্রাণকেন্দ্র ডি-চকে হাজার হাজার পিটিআই কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়ে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। তারা কনটেইনার ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা গুঁড়িয়ে ডি-চকে প্রবেশ করেন। আলজাজিরা, ডন এবং এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়ে এবং তীব্র কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
আলজাজিরার প্রতিনিধি কামাল হায়দার জানিয়েছেন, “ডি-চকের আকাশ কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণে বিক্ষোভকারীরা পিছু হটলেও কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসেন। আহতদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে তাদের দাবিতে কোনো ভাটা পড়েনি।”
জিও টিভি জানিয়েছে, পুলিশের গুলিতে এখন পর্যন্ত ছয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পিটিআইয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুলতান, রাজানপুর, গুজরাট ও দেরা গাজি খানসহ পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইসলামাবাদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কৌশলগতভাবে কনটেইনার এবং কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করেছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য। তবে পিটিআই সমর্থকদের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটি এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে এই বিক্ষোভ কেবল ইসলামাবাদ নয়, পুরো পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

