
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সমেশপুর বাজারে সরকারি নিয়ম অমান্য করে বাঁশ দিয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব ও ঠিকাদার সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মীর সেরাজুল ইসলামের স্বেচ্ছাচারিতায় নিয়ম না মেনে লোহার পাইপের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে করে সরকারি টাকার অপব্যবহার ও জনগনের জীবনমাল সংকটে পড়তে পারে।
এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য একটি দুই তলা ভবনের নির্মাণ কাজের তদারকি করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সমেশপুর বাজারে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি দুই তলা ভবন নির্মাণের জন্য মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে ২০২৩ সালের মে মাসে চুক্তি হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভবনের নির্মাণকাজে স্টিল সাঁটার ও লোহার পাইপ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসব নিয়ম অমান্য করে বাঁশের ফ্রেম ব্যবহার করছে। বর্তমানে প্রকল্পের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সমেশপুর বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবনটির ছাদ ঢালাইয়ের জন্য স্টিল ও লোহার পাইপ ব্যবহারের কথা থাকলেও, ঠিকাদার বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ফ্রেম তৈরি করছেন। স্থানীয়রা আরো জানান, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ঢালাই করলে ভবনটির স্থায়িত্বকাল কমে যাবে এবং ভবনটি ভবিষতে ধ্বসে জীবন সংকটে পড়তে পারে। স্থানীয়দের দাবি, মীর সেরাজুল ইসলাম তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই দ্রুত প্রশাসনে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
বেলকুচি উপজেলা প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন বলেন, ডিজাইন অনুযায়ী স্টিল ও লোহার পাইপ ব্যবহার করার কথা থাকলেও বাঁশ ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ভবনের স্থায়িত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা দুই দফা নোটিশ দিয়েছি, তবে ঠিকাদার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ঠিকাদার মীর সেরাজুল ইসলাম বলেন, বাঁশের ফ্রেম ব্যবহার করলে সমস্যা কোথায়? ভবন ভেঙে গেলে ক্ষতিপূরণ আমাকে দিতে হবে, এতে অন্যের কী ক্ষতি? তবে, কাজে ধীরগতির বিষয়ে কোনো পরিষ্কার উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি বরাদ্দকৃত স্টিল সাঁটার ব্যবহারের পরিবর্তে বাঁশের সাঁটার ব্যবহার সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। আমরা ঠিকাদারকে সাত দিনের মধ্যে বাঁশের সাঁটার সরিয়ে যথাযথ উপকরণ দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।