আশা ভোঁসলে তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছের কথাও সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। জোর দিয়ে বলেছেন, তার এখন একমাত্র ইচ্ছা হলো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত গান গাওয়া। তার কথায়, ‘একজন মায়ের ইচ্ছা কী? তার সন্তানরা ভালো থাকুক, একজন ঠাকুমার ইচ্ছা? তার নাতি-নাতনিরা সুখে থাকুক। এখন আমার একমাত্র ইচ্ছা হলো, আমি যেন গান গাইতে গাইতেই মারা যাই। আমার শেখার মতো আর কিছুই বাকি নেই।’
এই কিংবদন্তি শিল্পী বলেন, ‘আমি আমার পুরো জীবন গেয়েছি। আমি মাত্র তিন বছর বয়স থেকে শাস্ত্রীয় সংগীত শেখা শুরু করি। প্লেব্যাক গান করছি ৮২ বছর হয়ে গেছে। আর এখন ইচ্ছে হলো আমি গাইতে গাইতে মরতে চাই। এটাই আমাকে সবচেয়ে সুখী করবে।’ সব শেষে হাসিমুখে আশা বলেন, ‘আমি গান ছাড়া বাঁচব না।’
প্রসঙ্গত, নব্বই পেরোনো কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের জন্ম ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। তবে নিজের সুরেলা কণ্ঠে এখনো তিনি মঞ্চ জমিয়ে দিতে পারেন। তিনি ভারতের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের বোন।
মূলত তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রে নেপথ্য সঙ্গীত গাওয়ার জন্য বিখ্যাত। তার বহুমুখী প্রতিভার কারণে গণমাধ্যমে তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৪৩ সাল থেকে আরম্ভ করে তিনি আট দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য গান গেয়েছেন।
তিনি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৮টি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা-সহ নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং দুটি গ্র্যামি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেছেন।
তিনি ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এ ভূষিত হন। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মবিভূষণ পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ২০১৮ সালে বঙ্গবিভূষণ,ও ২০২১ সালে মহারাষ্ট্র ভূষণ পদকে ভূষিত হন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি খ্যাতিমান গায়ক এবং সুরকার শচীন দেব বর্মনের ছেলে, বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার রাহুলদেব (আরডি) বর্মনের স্ত্রী।

