আন্দোলনে নিহতরা ‘জুলাই শহীদ’, আহতরা ‘জুলাইযোদ্ধা’র পরিচিতি পাবেন

অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানিয়েছেন, জুলাই অধিদপ্তরের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অধিদপ্তর গঠনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই অধিদপ্তরটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।

0
91

অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানিয়েছেন, জুলাই অধিদপ্তরের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অধিদপ্তর গঠনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই অধিদপ্তরটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তাদেরকে সনদ ও পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে, পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি সুবিধা, চিকিৎসা ও ভাতাও নিশ্চিত করা হবে।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা।

ফারুক-ই-আজম বলেন, যারা জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবার এককালীন ৩০ লাখ টাকা করে পাবেন। এর মধ্যে এ অর্থবছরেই সঞ্চয়পত্রের অধীনে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। বাকি ২০ লাখ আগামী অর্থবছরে দেওয়া হবে।

‘আহতদের মধ্যে এ-ক্যাটাগরির (গুরুতর) যারা তারা এককালীন ৫ লাখ টাকা পাবেন, এর বাইরে ২০ হাজার করে মাসিক ভাতা পাবেন। বি-ক্যাটাগরির যাদের অঙ্গহানি হয়েছে, তারা এককালীন ৩ লাখ টাকা পাবেন, সঙ্গে ১৫ হাজার করে টাকা মাসিক ভাতা পাবেন। সরকারের বিভিন্ন মাত্রায় তারা প্রশিক্ষণ পাবেন। তারা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি পাবেন। কোটার ভিত্তিতে নয়, অবশ্যই মেধার ভিত্তিতে। যারা আহত হয়েছিলেন তবে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে গেছেন, তারা সি-ক্যাটাগরির আহত (কম গুরুতর)। তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি বা অন্য কিছুতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার পাবেন। তবে তারা কোনো টাকা বা ভাতা পাবেন না।’

রাজনৈতিক সরকার যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে জুলাই অধিদপ্তরের অস্তিত্ব নাও থাকতে পারে। এমন আশঙ্কা কি করেন– জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমরা তো সরকারিভাবে এ জুলাই অধিদপ্তর করেছি। পরে রাজনৈতিক সরকার যারাই নির্বাচিত হয়ে আসবেন তারা তো জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়েই আসবেন। আমরা মনে করি তারাও রক্ষা করবেন। তারা দেশ-জাতিকে মুক্তির জন্য, বৈষম্যমুক্ত করতে জুলাই অভ্যুত্থানে ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

ফারুক-ই-আজম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ তাদের তালিকা পেয়েছি জানুয়ারির ১৬ তারিখে। সেই রাতের ২টায় আমরা গেজেট করে তা প্রকাশ করেছি। তালিকাটাও তৈরি হচ্ছে খুব দ্রুত। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আহতদের তালিকা ক্যাটাগরিজ করা হচ্ছে। তালিকাটা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আসা মাত্র তাৎক্ষণিক আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব, গেজেট প্রকাশ করব। সুতরাং এখানে নতুন করে ঢুকানো বা বাদ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

আহতরা দাবি তুলেছেন ক্যাটাগরি তুলে দেওয়ার জন্য। সে ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ বা চিন্তা মন্ত্রণালয় করছে কি না– জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, না, এরকম কোনো তথ্য নেই। সেরকম কোনো পরিকল্পনা আপাতত জানা নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করছে। তারা তাদের কাজ শেষ করে আমাদের জানালে আমরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেব। শুরুর দিকে যারা আহত ছিলেন, আহত হয়ে, অসুস্থ হয়ে যারা চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের অনেকে ডকুমেন্টস রাখেননি বা সংগ্রহ করেননি। তাদেরও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ফারুক-ই-আজম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here