বরগুনায় এক পথশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর হাসপাতালে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা মোসলেমের বিরুদ্ধে। ঘটনার সাত দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মোসলেম সদরের হেউলিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা। সে বরগুনা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি বরগুনা সদরের আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের বৈকালীন বাজার এলাকায়। শিশুটির বাবা ভিক্ষুক ও মা মানসিক প্রতিবন্ধী। শিশুটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে ভাসমান অবস্থায় থাকত।
শিশুটি জানায়, গত ৭ মার্চ জেনারেল হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের গেটের কাছে চকলেটের লোভ দেখিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মোসলেম। এ সময় পাশবিক নির্যাতনে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে খোঁজ করলে এক পর্যায়ে হাসপাতালে দেখা যায়, শিশুটিকে কোনো রেজিস্ট্রারে ভর্তি করা হয়নি। পরে পঞ্চম তলার একটি ওয়ার্ডে তার সন্ধান মেলে।
পরে শুক্রবার রাত ২টার দিকে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় শিশুটির সঙ্গে তার ছোট বোনও ছিল। পুলিশ সন্দেহভাজন ভাবে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলে শিশুটি নিজেই অভিযুক্ত মোসলেমকে শনাক্ত করে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোসলেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে সারারাত অভিযান চালিয়ে নির্যাতিত শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী তিনজনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে এক বৃদ্ধকে শিশুটি শনাক্ত করেছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

