আমতলীতে মাজারে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ: আহত ৩৫

রোববার (১৬মার্চ ) গভীর রাতে আমতলী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বটতলার নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে।

0
85
ছবি: সংগৃহীত

রোববার (১৬মার্চ ) গভীর রাতে আমতলী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বটতলার নামক স্থানের নিকটবর্তী হযরত খাজা ইসমাঈল শাহ মাজারে বার্ষিক ওরশ চলাকালে ইমাম কল্যান ফাউন্ডেশনের ব্যানারে একদল তোহিদী জনতা হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করেছে । এতে মাজারের সামিয়ানা ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে এবং হামলা ও পাল্টা হামলায় উভয় গ্রুপের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার (১৭মার্চ) সকালে বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আলম, আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে সকল পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। মাজারে হামলা এব্ং অগিনকান্ডের ফলে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মাজার কতৃপক্ষ দাবী করেন। হামলার পর ইসমাইল শাহ পন্থী অনুসারী ও মুিরদানদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মাজারে হামলার খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকার লোক ভির করছেন পরিস্থিতি দেখার জন্য।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী ও গাজী বায়েজিদের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুই শতাধিক তৌহিদী জনতা মাজারে উপস্থিত হয়ে ওরশ বন্ধ করতে বলেন। এতে উভয়পক্ষের বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা শুরু হয়। এসময় ঘটনাস্থরে উপস্থিত তৌহিদী জনতা লাঠি শোটা নিয়ে মাজারে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর করে এবং মাজারে অগ্নি সংযোগ করে অভিযোগ মাজার পন্থীদের। হামলা পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়। আহতরা হল মাজারের খাদেম এ্যাডভোকেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ইসমাইল শাহের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম, খবির (৩০), বেল্লাল (৩২) জাকির হোসেন (৩১) সালমা বেগম (৪০), মিজানুর রহমমমান (৪৫) আবুল কালাম (৪২),সোলায়মান (৩৮), রেজাউল (১৮), বাদল মৃধা (৪০), দুলাল মৃধা (৪২), আবু বকর (৪২), আবুল হোসেন (২৮), আব্দুল্লাহ আল নোমান (২৮), মোঃ মামুন (৪৩), আবুল হোসেন (৩৩)। আহত অন্যরা বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।মাজারের দায়িত্ব প্রাপ্ত খলিফা এড, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জানান তারা পবিত্র রমজান থাকায় শুধু মাত্র ওয়াজ মাহফিল,দোয়া,মিলাদের মধ্য দিয়ে ওরসের কার্যক্রম চলছিল। হঠাৎ ইসলামী আন্দোলন এর ওমর ফারুক জেহাদী শতাধিক লোক নিয়ে মাজারে হামলা করে ও মাজাওে আগুন ধরিয়ে দেয় ।

মাজারে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে আমতলীর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

খবর পেয়ে ওই রাতেই আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) তারেক হাসান ও ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here