আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হয়েছে দুই সপ্তাহ আগে, তবে বাংলাদেশ দলের জন্য টুর্নামেন্টটি শেষ হয়েছে আরও আগে। অথচ এতদিন পরও আলোচনার কেন্দ্রে সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারকে দলে না রাখার কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা চললেও, এবার নিজেই মুখ খুললেন সাকিব।
সাকিবের অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন থাকলেও এতদিন তিনি চুপ ছিলেন। তবে সম্প্রতি ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে না রাখার বিষয়ে বিসিবি থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
সাকিব বলেন, ‘দেখুন, কারও বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তবে যদি এই বিষয়ে (বিসিবি ও সাকিবের মাঝে) যোগাযোগটা ভালোভাবে করা হতো, তাহলে আমি খুশি হতাম।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু এর আগে জানিয়েছিলেন, সাকিবের দলে না থাকার অন্যতম কারণ তার বোলিং নিষেধাজ্ঞা।
‘বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষায় নেগেটিভ, তাই তিনি শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে পারবেন। আমরা তাকে দল গঠনে ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করেছি। কিন্তু কম্বিনেশনে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে জায়গা দেওয়া যায়নি।’ তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো জনমতের প্রভাব ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে কেউ অবসর না নিলে (নির্বাচকদের) বিবেচনায় থাকে, যেটা বিসিবি সভাপতিও বলেছেন।’
বাংলাদেশ দলের সিনিয়র ব্যাটারদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স ছিল না। শুধু নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় ম্যাচে রান পেয়েছিলেন, বাকি ব্যাটাররা ব্যর্থ ছিলেন। তরুণ ব্যাটাররাই তুলনামূলকভাবে ভালো করেছেন।
সিনিয়র ব্যাটারদের ব্যর্থতার ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ দল ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে যায়। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণার সময় সাকিব নিষিদ্ধ থাকলেও, সম্প্রতি তিনি তৃতীয় দফায় ইংল্যান্ডের বার্মিংহ্যামে বোলিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর ফলে তিনি এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবারও বোলিং করতে পারবেন।

