শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ছেলের দায়ের কোপে এক আওয়ামী লীগ নেতা খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার কিছু সময় পর অভিযুক্ত ছেলের লাশ পাওয়া যায় বাড়ির পাশের মাঠে। তবে তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
নিহত মকবুল হোসেন মোল্লা (৬৫) ওই গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তাঁর ছেলের নাম রুবেল মোল্লা (৩৫)। রুবেল দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া থেকে আড়াই বছর আগে দেশে ফিরে পরিবহন ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রুবেল ছোট থাকতে তাঁর মা মারা যান। এরপর বাবা মকবুল দ্বিতীয় বিয়ে করেন। রুবেল মালয়েশিয়া থেকে এসে বাবার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পৈতৃক জমিতে নতুন বাড়ি করেন। সেখানে বিভিন্ন ফলের গাছ রোপণ করেছিলেন বাবা মকবুল।
রোববার দুপুরে সেই গাছ কেটে ফেলেন রুবেল। মকবুল তা জানতে পেরে সন্ধ্যায় ছেলের বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে কৈফিয়ত চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রুবেল ধারালো দা দিয়ে মকবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে রুবেল দৌড়ে পালিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা পরে মকবুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী রুবেলকে গ্রামের ফসলের মাঠে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম উদ্দিন মোল্লা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে ছেলে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে ছেলের লাশও ফসলের মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বাবাকে কুপিয়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে ছেলের মৃত্যু হয়েছে। দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য এগুলো শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

