জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নালিতাবাড়ীর সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে।
মামলার তথ্যমতে, গত বছরের জুন মাসে আদালতের মাধ্যমে ২৫হাজার ঘনফুট বালু নিলামে কিনে নেয় শ্রীবরদী উপজেলা ব্যবসায়ী গোলাপ হোসেন। নিলামে বিক্রয় করা বালু গোলাপ হোসেনকে বুঝিয়ে দিতে ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা। পরবর্তীতে মাসুদ রানা বদলী হয়ে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলে গেলে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিছুর রহমানকে চাঁদার ওই টাকা না দিলে বালু বুঝিয়ে দিচ্ছেন না বলে দাবি করেন ব্যবসায়ী গোলাপ হোসেন। এনিয়ে আজ দুপুরে নালিতাবাড়ীর সিআর আমলী আদালতে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা, নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববি এবং সহকারি কমিশনার (ভূূমি) আনিছুর রহমানকে বিবাদী করে ৬লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন ওই ভুক্তভোগী। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের জন্য শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন আদালত।
মামলা বাদী গোলাপ হোসেন বলেন, শুরুতে আমাকে টাকা-পয়সার অফার দিয়েছিল। আমি দিতে পারবো না এবং অপারগতা প্রকাশ করায় আমাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছে। আর বলেছে সেখান থেকেই মালামাল বুঝে নিতে। তাই আমি ন্যায় বিচাই চাই, ন্যায় বিচার প্রত্যাশী।
শেরপুর জজ কোর্টের এড. জাহিদুল হক আধার বলেন, দীর্ঘ নয় মাস হলেও ইউএনও সাহেব বালু বুঝিয়ে দিচ্ছে না। বার বার ভুক্তভোগী ঘুরাফেরা করলে তিনি এক পর্যায়ে সরকারি ফান্ডে ৬লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। তাই ভুক্তভোগী আজ বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেছে।
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে, নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববি জানান, আদালত রায় দিয়েছেন যার বালু সে বুঝে নিবে, তাও সাত কার্যদিবসে এবং পুলিশের উপস্থিতিতে। রায়ের তারিখ আগস্টে শেষ হয়েছে। এখন মার্চে এসে উনি অভিযোগ কেনো দিয়েছেন সেটি উনি ভালো জানেন।

