মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার উপজেলার কালই মোড় থেকে রামকৃষ্ণপুর পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের নির্মাণাধীন পাকা রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় চরম জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। জানা যায়, এক কোটি ২৭ লাখ টাকায় রাস্তার কাজ পায় মীর কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী গত ১০ মার্চের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করার কথা থাকলেও একমাস পেরিয়ে গেলেও রাস্তার অধিকাংশ কাজই শেষ হয়নি। ফলে যানবাহন চালক, এলাকাবাসী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নানা রকমের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালই মোড় থেকে রামকৃষ্ণপুর পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০ মিটার এলাকাজুড়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক খুড়ে বেড তৈরি করা হয়েছে। আর সেই বেডে ফেলা হয়েছে খোয়া। তারপরে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় ধুলোবালিতে যানবাহন ও বসতবাড়ীগুলো লাল রংয়ের হয়েছে। ধুলোবালির জন্য পায়ে হেঁটেই মানুষ চলাচল করতে পারছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে করে দূরদূরান্তের পথচারীসহ স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে।
হরিরামপুর উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্র জানায়, ২ হাজার ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ঝিটকা-রামকৃষ্ণপুর সড়কটি সংস্কারের কাজ পায় মীর কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সড়কটি সংস্কারের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক কোটি ২৭ লাখ টাকায় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত ১০ মার্চের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করার কথা।
কালই-রামকৃষ্ণপুর সড়কে নিয়মিত রিক্সা চালক রুবেল বলেন, এই সড়কে চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়। পরিষ্কার গাড়ি নিয়ে এই রাস্তায় আসলে গাড়ির রংসহ আমাদের মাথার চুল এবং জামাকাপড়ের রঙও লাল হয়ে যায়। রাস্তাটি দ্রুত পাকা হলে চলাচল করতে সুবিধা হবে ।
রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সনজিত বলেন, এই রাস্তাটার জন্য আমাদের এলাকায় ভ্যান-রিকশা কিছু আসতে চায় না। চলাফেরা করতেও খুব কষ্ট হচ্ছে। বেশকিছুদিন আগে এই সড়কে ইটের খোয়া ফেলে রাখে কাজ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে আর বাকি কাজ শেষ করেনি। ফলে ধুলোবালিতে আমাদের নাজেহাল অবস্থা।
কালই গ্রামের শরিফ মিয়া বলেন, এই রাস্তা দিয়ে আমাকে সবসময় যেতে হয়। ধুলোবালিতে আমারদের বাড়ির টিন এবং গাছপালার রঙও লাল হয়ে গেছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করছি আমরা।
এবিষয়ে মীর কনস্ট্রাকশনের স্বত্ত্বাধিকারী ও ঘিওর উপজেলা বিএনপি সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক বলেন, খুব দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।
মানিকগঞ্জ জেলার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, আগামী আট থেকে নয়দিনের মাঝে কার্পেটিং সম্পন্ন হয়ে যাবে।

