মায়ের জন্য কাঁদছিল শিশুকন্যা, অপহরণকারী ভেবে বাবাকে পেটাল জনতা

0
78
প্রতীকী ছবি

ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। ১০ বছর আগে সওদাগরপাড়ার সোহেল মিয়ার (৩০) সঙ্গে বিয়ে হয় প্রতিবেশী সাবিনা আক্তারের (২৫)। কিছুদিন আগে দুইজনের মধ্যে তালাক হয়ে যায়। এরপর থেকে তিন বছর বয়সী রাইসা রয়ে যায় বাবার কাছে।

রবিবার (১৩ এপ্রিল) রাইসা মায়ের কাছে যেতে অস্থির হয়ে ওঠে। তাই সোহেল মিয়া তাকে নিয়ে বের হন তার স্ত্রীর খোঁজে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করার সময় মায়ের জন্য কান্না শুরু করে রাইসা। শিশুটির কান্না দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। সোহেলকে অপহরণকারী ভেবে এক পর্যায়ে বেঁধে বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন। এ সময় রাইসা “আব্বা আব্বা” বলে কান্না করলেও জনরোষ থেকে রক্ষা পাননি সোহেল।

এ সময় সোহেল “এই ভাই, এই ভাই আমার কথা হুনুইন” বলে বারবার ক্ষুব্ধ জনতার মনোযোগ আকর্ষণ করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রমাণ হয় রাইসা সোহেলরই মেয়ে।

বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের তত্ত্বাবধানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সোহেল।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “খুবই দুঃখজনক, কষ্টদায়ক। কোনো বিষয়ে সন্দেহ হতেই পারে। সন্দেহ হলেই প্রমাণ ছাড়া বিচার শুরু করে দেওয়া বড় অন্যায়, বড় ভুল।”

তিনি বলেন, “রাতেই সোহেলের মা, ভাইসহ আরও অনেকে থানায় এসে দুজনকে নিয়ে যান। এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, মায়ের সঙ্গ বঞ্চিত রাইসাকে শান্ত রাখতে সোহেল বেশি বেশি আদর করত। তাতেও কাজ হচ্ছিল না। তাই মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই সাবেক স্ত্রীর খোঁজে বের হয়েছিলেন সোহেল। ভৈরবে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাইসার মা থাকতে পারেন ভেবে কয়েক দিন আগে রাইসাকে নিয়ে সেখানে যান সোহেল; কিন্তু তাকে পাননি। গতকাল ভৈরব থেকে বাড়ি ফেরার সময় আগরপুর বাসস্ট্যান্ডে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়।

মুক্ত হওয়ার পর সোহেল বলেন, “তারা (ক্ষুব্ধ জনতা) আমার কোনো কথাই হুনে নাই। রাইসা আমার মাইয়া—এই কথাটা কওয়ার সুযোগ দেয় নাই। যে যেমনে পারছে মারছে আর ভিডিও করছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here