১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৯৫ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। তবে এরপরেই যেন হুঁশ ফেরে বাংলাদেশি বোলারদের। স্পিনারদের তোপে একটা সময় ম্যাচ জমিয়ে তোলে টাইগাররা। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজের ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিতে স্বল্প পুঁজি নিয়েও জয়ের স্বপ্ন দেখে স্বাগতিকরা। তবে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জিম্বাবুয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১৯১ ও ২৫৫
জিম্বাবুয়ে: ২৭৩ ও ১৭৪/৭ (টার্গেট ১৭৪)
জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ৭ উইকেটের ৫টিই দখল করেন মিরাজ। দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট (৫৪) ও বেন কারানকে (৪৪) ফেরান তিনি। মাঝে নিক ওয়েলচ ও ক্রেইগ আরভিনকে আউট করেন তাইজুল ইসলাম। শেষ দিকে নিয়াশা মায়াভো ও ওয়েলিংটন মাসাদজাকে বোল্ড করে ৫ উইকেট দখল করেন মিরাজ। তবে ওয়েসলি মাধেভেরের অপরাজিত ১৯ রানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশি স্পিনার মিরাজ টেস্ট ক্যারিয়ারে ১১তমবার ৫ উইকেট পেলেন। এছাড়া তাইজুল ইসলাম ২টি উইকেট দখল করেন।
এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৫ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ব্লেসিং মুজারাবানির বিধ্বংসী বোলিংয়ের পরেও কোনোমতে আড়াই পার করে টাইগাররা। যেখানে চতুর্থ ইনিংসে জিম্বাবুয়ে জয়ের জন্য ১৭৪ রানের লক্ষ্য পেয়েছে।
আজ বুধবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টের চতুর্থ দিন বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা পর শুরু হয়েছে খেলা। তবে দিনের শুরুতে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
চলতি টেস্টে শুরু থেকেই দারুণ বল করছেন জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট নেন তিনি। এবার নিলেন ৬ উইকেট।
খেলার শুরুতেই আঘাত হানেন মুজারাবানি। দিনের দ্বিতীয় বলেই তিনি ফেরান নাজমুল হোসেন শান্তকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক শর্ট বলে বাজে শটে ফাইন লেগে ধরা দেন। তিনি ১০৫ বলে ৭টি চারে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন। এরপর ক্রিজে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। খানিক পর বাংলাদেশের অলরাউন্ডারকে বাড়তি বাউন্সের বলে গালিতে ক্যাচ বানিয়ে টেস্টে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতন পঞ্চম উইকেট পান মুজারাবানি। ১৫ বলে ১ ছক্কা, ১ চারে ১১ করে ফেরেন মিরাজ।
মুজারাবানির ঝলকের মাঝে ইনিংসে নিজের প্রথম শিকার ধরেন রিচার্ড এনগারাভা। বাঁহাতি পেসারের বলে তাইজুল ইসলাম কট বিহাইন্ড হলেও মাঠের আম্পায়ার আউট দেননি, রিভিউ নিয়ে সফল হয় জিম্বাবুয়ে।
এরপর টেলএন্ডারদের নিয়ে একাই লড়ে যান জাকের। ইনিংসের শেষ উইকেট হিসেবে বিদায় নেন তিনি। মুজারবানি ষষ্ঠ উইকেট দখল করেন। জাকের ১১১ বলে ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ৫৮ রান করেন। এছাড়া হাসান মাহমুদ ১২ রান করেন।
জিম্বাবুয়ে পেসার মুজারবানি ৬টি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ২টি উইকেট নেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তৃতীয়বার ৫ উইকেট দখল করলেন মুজারবানি।

