জরুরি বৈঠকে বসছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কমিটি

পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সকালে এনএসস’র এ বৈঠক হবে।

0
69
ছবি: সংগৃহীত

জম্মু ও কাশ্মীরে হামলার পর সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। এ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পাকিস্তান। এ অবস্থায় জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

কাশ্মীরের পহেলগামে চালানো হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত এবং আরও ১৭ জন আহত হন। এ ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তুলে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক ডার এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে এই জরুরি এনএসসি বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেন। জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, সামরিক বাহিনীর প্রধানরা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, পাকিস্তান যদি ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন’ দেওয়া বন্ধ না করে, তাহলে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিচুক্তি কার্যকর থাকবে না। চুক্তি ‘স্থগিত’ করার পাশাপাশি আরও কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে।

ভারতের নেওয়া পাঁচটি বড় পদক্ষেপ হলো-

– সিন্ধু পানিচুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত
– আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ
– পাকিস্তানি নাগরিকদের ১ মে’র মধ্যে ভারতে থাকার অনুমতি বাতিল
– দক্ষিণ এশিয়ার সার্ক ভিসা ছাড়ের আওতায় পাকিস্তানিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ
– দিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার এবং পাকিস্তানের কূটনৈতিক কর্মীদের সংখ্যা ৫৫ থেকে ৩০-এ নামিয়ে আনা। একইসঙ্গে ভারত নিজ দেশের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ইসলামাবাদ থেকে প্রত্যাহার করেছে।

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাহেলগামের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছে। তবে ভারতের অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরাসরি মন্তব্য করা হয়নি।

জানা যায়, ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর করাচিতে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান সিন্ধু পানিচুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় বহুল আলোচিত এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু বেসিনের তিনটি নদী সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাবের অধিকাংশ পানি পাকিস্তান পেয়ে থাকে। আর রাভি, বিপাশা ও সাতলুজ পানির বেশির ভাগ পায় ভারত।

চুক্তি স্থগিতের ফলে, সিন্ধু নদী এবং এর শাখানদী ঝিলাম, চেনাব, রাভি, বিয়াস এবং সাতলুজ থেকে পাকিস্তানে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। এই নদীগুলোর পানির ওপর পাকিস্তানের লাখ লাখ মানুষ নির্ভশীল। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here