আ. লীগ অফিসে হামলার পর চেয়ার-টেবিলে আগুন, খুলে নিলো গ্রিল ও লোহার রড

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে কিছু যুবক আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং চেয়ার-টেবিল উপর থেকে নিচে ফেলে দেয়। পরে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেয় তারা। এরপর কয়েকজনকে খুলে ফেলা জানালার গ্রিল ও লোহার রড হাতে নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। তবে হামলাকারী যুবকদের কেউ চেনেন না বলে জানান স্থানীয়রা। 

0
82

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও হাতুড়ি দিয়ে দরজা-জানালা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১০ মে) বিকেল ৫টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের গেট সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু মার্কেট ভবনের দ্বিতীয় তলায় দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে কিছু যুবক আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং চেয়ার-টেবিল উপর থেকে নিচে ফেলে দেয়। পরে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেয় তারা। এরপর কয়েকজনকে খুলে ফেলা জানালার গ্রিল ও লোহার রড হাতে নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। তবে হামলাকারী যুবকদের কেউ চেনেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গাইবান্ধা-৩ আসনের সাবেক এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতি ও তার ভাই পলাশবাড়ীর সাবেক পৌর মেয়র গোলাম সারোয়ার প্রধান বিপ্লব সরকারি বরাদ্দের টাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মার্কেট নির্মাণ করে নিচতলায় দোকান ঘর ভাড়া এবং দ্বিতীয় তলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খুলে বসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী ভুট্টু বলেন, বিকেলে চৌমাথা মোড়ে ছাত্র-জনতার ব্লকেড ও অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। পরে হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলার খবর পাই। হামলাকারীরা তালা ভেঙে সেখানে থাকা চেয়ার-টেবিল বের করে আগুন দিয়ে চলে যায়। তবে তাৎক্ষণিভাবে কেউ হামলাকারীদের পরিচয় জানাতে পারেনি বলে জানান তিনি।

এর আগে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের চৌমাথা মোড়ে ব্লকেড এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলো সর্বস্তরের ছাত্রজনতা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌমাথা মোড়ে এসে শেষ হয়।

তবে মিছিলে অংশ নেওয়া কেউ আ.লীগের কার্যালয়ে হামলা ও আগুন দেয়নি বলে দাবি পলাশবাড়ীর ছাত্র নেতাদের। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, ফ্যাসিবাদের দোসরদের পালিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ ও জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি শেষ হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মাসুদ রানা শেখ বলেন, অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও আগুনের ঘটনায় তাদের কেউ জড়িত নন।

অপরদিকে, পলাশবাড়ী উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি শামীম হোসেন বলেন, অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। তবে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনায় তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here