প্রথম সরকারি সফরে সৌদি আরবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

0
98
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সরকারি সফরে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান যখন সৌদি আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন যুদ্ধবিমান দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। রিয়াদ বিমানবন্দরে অবতরণের পর ট্রাম্পকে জানানো হয় উষ্ণ অভ্যর্থনা।

মঙ্গলবার (১৩ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সময় ভোর ২টা ৪৯ মিনিটে (সৌদি আরব সময় সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে) এয়ার ফোর্স ওয়ান রিয়াদে অবতরণ করে। সৌদি আকাশসীমায় প্রবেশের সময় এফ ১৫ যুদ্ধবিমানগুলো তাকে ঘিরে রাখে, যা কূটনৈতিক সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

রিয়াদ রয়্যাল টার্মিনালে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাতে রাজকীয় বেগুনি কার্পেট বিছানো হয়। সেখানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানান। পরে টার্মিনালের ভেতরে একটি ঐতিহ্যবাহী কফি পান অনুষ্ঠানে অংশ নেন তারা।

এরপর ট্রাম্প নিজ হোটেলের উদ্দেশে রওনা হন। রিয়াদের রাস্তাগুলোতে সৌদি ও আমেরিকার পতাকা শোভা পাচ্ছিল। সফরের রাজকীয় মর্যাদা তুলে ধরতেই এই আয়োজন।

সংবাদমাধ্যম রিয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার দিনের এ সফরের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বাণিজ্যিক চুক্তি সই।

সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি প্রাথমিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান সৌদি আরব সফরে যেসব চুক্তি হতে যাচ্ছে তার মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তিও আছে। এ চুক্তির আওতায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র ও অন্য সামরিক উপকরণ ক্রয় করবে। এতে রাডার সিস্টেম ও পরিবহন বিমান কেনার বিষয়টিও আছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরেই সৌদি আরবের অস্ত্রের বড় সরবরাহকারী দেশ। যদিও দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা ভাটা পড়েছিল জো বাইডেন ক্ষমতায় থাকার সময় ২০২১ সালে। ইয়েমেন যুদ্ধে দেশটির ভূমিকা উদ্বেগ প্রকাশ করে তখন সৌদি আরবকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করেছিলো বাইডেন প্রশাসন।

ট্রাম্পের এ সফরে তার সঙ্গে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে যোগ দেবেন ট্রাম্প। এরপর আগামীকাল বুধবার তিনি কাতারে যাবেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবেন তিনি।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবকে বেছে নিয়েছিলেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক সময়ের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টদের প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম। দেশটির আধুনিককালের প্রেসিডেন্টরা প্রথম বিদেশ সফরের জন্য সাধারণত যুক্তরাজ্য, কানাডা কিংবা মেক্সিকোকে বেছে নেন।

উল্লেখ্য, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজির হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশ দুটির সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্টে বলা হয়েছিল, যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান ওই হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন দিয়েছিলেন। যদিও এ অভিযোগ সৌদি আরব সবসময় প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here