মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্য

0
91
ফাইল ছবি

স্কুল জীবন থেকে শুরু করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, বরাবরই অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫)। বাল্যকালে অত্যন্ত শান্তশিষ্ট এবং নম্র ভদ্র বলেই তাকে স্বজন ও প্রতিবেশীরা চিনত। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করলেও প্রতিটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবারের সাথে গ্রামে আসতেন সাম্য। হঠাৎ তার এমন মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

বুধবার (১৪ মে) সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সড়াতৈল এলাকায় সাম্যের গ্রামের বাড়িতে শেষবারের মত একবার সাম্যকে দেখতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় দেখা যায়। এ সময় অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। সন্ধ্যার পরে ঢাকা থেকে লাশবাহী গাড়িতে সাম্যকে তার গ্রামের বাড়িতে আনলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আত্বীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও এলাকাবাসী।

রাত ১০টার দিকে সড়াতৈল কবরস্থান ঈদগাহ মাঠে নামাজে জানাজা শেষে সেখানেই মা ও দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় সাম্যকে।

জানাজা নামাজে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বেলকুচি উপজেলা শাখার আমীর আরিফুল ইসলাম সোহেল, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি ও ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাও: মাহবুবুর রশিদ শামীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সেরাজুল ইসলাম সেরাজসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চের পাশে মোটরসাইকেলে আঘাতকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন শাহরিয়ার আলম সাম্য। তিনি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়ার বেড়া ইউনিয়নের সড়াতৈল গ্রামের ফখরুল আলম ফরহাদের ছেলে। সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি স্যার এ এফ রহমান হলের ২২২ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ওই হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

সাম্যের প্রতিবেশীরা বলেন, সাম্যের মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজন ছাড়াও প্রতিবেশীরাও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এমন একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক এবং অকাল মৃত্যু সহজে কেউ মেনে নিতে পারছে না। সাম্যকে আমরা অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত ছেলে হিসেবেই দেখেছি। তাকে কেউ এভাবে খুন করতে পারে সেটা ভাবাই যায় না।

সাম্যের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার বাবা ফকরুল আলম ফরহাদ অবসরপ্রাপ্ত বিসিসিআই সার কারখানার কর্মকর্তা। তিনি ২০১২ সাল থেকে সপরিবারে ঢাকার মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার একটি বহুতল ভবনের সপ্তম তলায় বাস করেন। সাম্যের মা চার বছর আগে মারা গেছেন। চার সন্তানের মধ্যে সাম্য সবার ছোট। সে ঢাবিতে পড়াশোনা করতো। আর বাকি তিন ছেলে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। ফরহাদের গ্রামের বাড়ি সড়াতৈলে তার অন্যান্য ভাইয়েরা বাস করেন।

সাম্যের চাচা কায়সার আলম বলেন, গত শুক্রবার ঢাকাতে আমার বড় ভাতিজির গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান ছিল ঢাকায়। সেখানে সাম্যর সঙ্গে কথা হয়। জানতাম না এটাই হবে তার সঙ্গে আমার শেষ কথা। সাম্যের কী অপরাধ ছিল যে মা হারা এ ছেলেটিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এমন মেধাবী ভাতিজার মৃত্যু মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here