ফেনীর আলোচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যাকাণ্ড আজ মঙ্গলবার ১১ বছরে পড়ল। এ হত্যা মামলার রায়ে ৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন আদালত।
পরে সাজাপ্রাপ্তরা রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলেও তার শুনানি এখনও কার্য তালিকায় আসেনি। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় ডেথ রেফারেন্সের শুনানিও আটকে আছে।
দীর্ঘ ১১ বছরেও এ হত্যার রায় কার্যকর না হওয়ায় নিহতের স্বজনরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। জানা যায়, ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের বিলাসী সিনেমা হলের সামনে একরামকে হত্যা করা হয়। ঘটনার রাতে তার ভাই রেজাউল হক বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই সময়ের পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ এ মামলায় তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ আগস্ট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার ১৬ আসামি আদালতে ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে জবানবন্দি দেন।
২০১৮ সালের ১৩ মার্চ ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক এ হত্যা মামলার রায় দেন। রায়ে ৫৬ জন আসামির মধ্যে ৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ ও ১৬ জনকে খালাস দেওয়া হয়। এদের মধ্যে সোহেল নামে এক আসামি রায় ঘোষণার আগেই র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান।
বর্তমানে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ৩৯ আসামির মধ্যে ২২ জন কারাগারে আছেন। বাকি ১৭ জনের মধ্যে ৮ জন জামিনে পেয়ে পলাতক ও ৯ জন ঘটনার শুরু থেকেই পলাতক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাদের হদিস পাচ্ছে না, তাদের মধ্যে কয়েকজন দেশত্যাগ করেছে বলেও পুলিশের কাছে তথ্য আছে।
এ মামলায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন ২২ আসামি। তারা সবাই খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। এরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী সিফাত, আবু বক্কর সিদ্দিক, আজমির হোসেন রায়হান, শাহজালাল উদ্দিন শিপন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ওরফে আজাদ, কাজী শানান মাহমুদ, মীর হোসেন আরিফ ওরফে নাতি আরিফ, আরিফ ওরফে পাঙ্কু আরিফ, রাশেদুল ইসলাম রাজু, সোহান চৌধুরী, জসিম উদ্দিন নয়ন, নিজাম উদ্দিন আবু, আবদুল কাইউম, নুর উদ্দিন মিয়া, তোতা মানিক, মো. সজিব, মামুন, রুবেল, হুমায়ুন ও টিপু।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে জামিনে পেয়ে পলাতক ৮ আসামি হলেনÑ ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়লা জেসমিন, বড় মনির ছেলে আবিদুল ইসলাম, এমরান হোসেন রাসেল, জাহিদুল হাসেম সৈকত, চৌধুরী মোহাম্মদ নাফিজ উদ্দিন অনিক, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, আরমান হোসেন কাউসার ও জসিম উদ্দিন।
এ ছাড়া এ মামলার পর থেকেই নিখোঁজ আছেন ৯ আসামি। তারা শুরু থেকেই পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন। এরা হলেনÑ ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, রাহাত মোহাম্মদ এরফান আজাদ, শফিকুর রহমান, একরাম হোসেন, মোসলেহ উদ্দিন আসিফ, মহি উদ্দিন আনিছ, টিটু ও বাবলু।
মামলার রায়ে ১৬ জন খালাস পেয়েছেন। এরা হলেনÑ বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মিনার, পৌর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিস্টার, আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন পাটোয়ারী ওরফে টুপি বেলাল, মো. আলমগীর ওরফে আলাউদ্দিন, আবদুর রহমান রউপ, সাইদুল করিম পবন ওরফে পাপন, জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন, শরিফুল ইসলাম পিয়াস, কালা মিয়া, নুরুল আবসার রিপন, ইউনুস ভূঁইয়া শামীম ওরফে টপ শামীম, মো. মাসুদ, কাদের ও ফারুক।
ফেনী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, ‘একরাম হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ৩-৪ জন আসামির সাজাপরোয়ানা ফেনী মডেল থানায় আছে। বাকি পলাতক আসামিদের পরোয়ানাগুলো তাদের স্থায়ী ঠিকানার সংশ্লিষ্ট থানায় আছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে। তবে তাদের কোনো হদিস মিলছে না।’
ফেনী জেলা জজ কোর্টের পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান বলের, ‘পেপারবুক প্রস্তুত না হওয়ায় আসামিদের আপিলের শুনানি শুরু হয়নি।’

