সচিবালয়ে বিক্ষোভ চলবে, কর্মচারীদের হুঁশিয়ারি হাসনাতের

0
90
ছবি: সংগৃহীত

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার (২৬ মে) টানা তৃতীয় দিনের মতো সচিবালয়ের ভেতর বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা। দুপুর আড়াইটার দিকে আজকের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন তারা।

মঙ্গলবার (২৭ মে) আবারও বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে একই ধরনের কর্মসূচি পালনের জন্য সচিবালয়ের বাইরে সারা দেশের সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বেলা আড়াইটার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবনের নিচে ঐক্য ফোরামের নেতারা আগামীকালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঐক্য ফোরামের কো চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একাংশের সভাপতি মো.বাদিউল কবীর বলেন, ‘কর্মসূচি ততক্ষণ পর্যন্ত চলমান থাকবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত এই ‘কালো’ আইন বা অধ্যাদেশ বাতিল সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার না করা হবে। এই আইন বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে চলমান কর্মসূচি সমাপ্ত হবে।’ তিনি আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয় চত্বরের বাদামতলায় সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।

আজকে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় আজ সেই বৈঠকটি সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান বাদিউল কবীর। আবার বৈঠকের সময় ঠিক হলে তা সাংবাদিকদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলেন তিনি।

ঐক্য ফোরামের কো চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের আরেকাংশের সভাপতি মুহা. নূরুল ইসলাম বলেন, ‌ সারা দেশের কর্মচারীরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

অপরদিকে আন্দোলনরত কর্মচারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

এদিন সকালে এনসিপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলার পথসভা কর্মসূচি শুরু হয়। এই কর্মসূচি শুরুর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকার বিপ্লব উদ্যানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে আপনারা কালো ব্যাজ ধারণ করে শেখ হাসিনাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এখন আপনারা অফিস চলতে দেবেন না বলে হুমকি দেন। ৫ আগস্টের আগে শেখ হাসিনার চোখে আঙুল দিয়ে, শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আপনারা কিন্তু কেউ পদত্যাগ করেন নাই।’

তিনি, বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার টিকে গেলে আপনারা ঠিকই পদলেহন করে চাকরি করতেন। সুতরাং ৫ আগস্ট–পরবর্তী বাংলাদেশে আপনারা যদি জনগণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এ সরকারকে হুমকি দেন ও সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দেন, তবে মনে রাখবেন, জনগণই আপনাদের বিকল্প খুঁজে নেবে।’

হাসনাত প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে কোনো সচিব, কোনো আমলা বা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কি পদত্যাগ করেছেন। একজনও কি পদত্যাগ করেছেন। রাস্তার মধ্যে নাগরিকদের যে এভাবে গুলি করে হত্যা করছিল, তখন কি একজন সচিব বা আমলার পদত্যাগের খবর এসেছিল? কিন্তু এই সরকারের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তারা সহযোগিতা না করে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে লাখ লাখ হাসনাত আবদুল্লাহ আছেন। এই হাসনাত আবদুল্লাহ বেঁচে থাকতে এই সংস্কার কার্যক্রমে যদি বাধা আসে, সেটি কঠোর হাতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে। আপনারা এটা ভাববেন না যে আপনাদের বিকল্প নাই। জনগণ বিকল্প খুঁজে নেবে। সুতরাং সরকারকে সহযোগিতা করুন। সংস্কার কার্যক্রমকে সহযোগিতা করুন। সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে যদি আপনাদের কোনো পর্যালোচনা থাকে, তবে সেটি আপনারা নিজেরা আলোচনা করে সমাধান করুন। সরকারকে যদি জিম্মি করেন, সেটার পরিস্থিতি ভালো হবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here