শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রস্তাবিত পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করে যাওয়ার পর নালিতাবাড়ীর বাতকুচি বিট কার্যালয়ে বন্যহাতির একটি দল হানা দিয়েছে। এসময় কার্যালয়ের ঘরের আসবাব তছনছ করে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। গেল রাতে পাহাড়ের টিলায় অবস্থিত কার্যালয়টিতে ২০ থেকে ২৫টি বন্যহাতির একটি দল হানা দেয়।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী জানান, চার থেকে পাঁচটি হাতি ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে ফেলে। এসময় কয়েকটি হাতির শাবক ঘরের ভেতরে ঢুকে ঘরে রাখা চাল খেয়ে ফেলে এবং তিনটি কক্ষে থাকা সব আসবাব ভেঙে তছনছ করে। পরে প্রস্তাবিত দাওধারা পর্যটন কেন্দ্রের পাশের একটি মৎস্য খামারের টিলায় কলা বাগানে তাণ্ডব চালিয়ে সব কলাগাছ খেয়ে সাবার করে। এরপর গ্রামবাসী ও বনবিভাগের লোকজন হাতির দলটিকে গারো পাহাড়ে প্রস্তাবিত দাওধারা কাটাবাড়ি জঙ্গলে পাঠায়।

এদিকে, আজ ভোরে নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামে ৪০ থেকে ৪২টি বন্যহাতির একটি দল সাতটি ঘরে আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। প্রথমে ঘরে ঢুকে হাতি আসবাবপত্র তছনছ করে। এরপর ধান-চাল খেয়ে ছিঁটিয়ে ফেলে চলে যায়। এসময় আতঙ্কে শিশু সন্তানসহ পরিবারের সবাই অন্যত্র আশ্রয় নেয়।

শেরপুরের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির বলেন, বাতকুচি বিটের এই এরিয়াটা যেখানে হাতি আক্রমণ করছে এখানে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রস্তাবিত ইকোপার্ক এটার সাথেই। এর মানে এখানকার লোকেরা যেটা বললো হাতি এখানে আসে না কখনো। গতকাল উপদেষ্টা মহোদয়ের সাথে তারা একথায় বলেছে। কিন্তু এখানে হাতি গতকাল আক্রমণ করার অর্থই হচ্ছে এখানে হাতি আছে। যেদিন এলাকাবাসী বলেছে হাতি এই এলাকায় আসে না, কখনো আমরা দেখিনি, অনেক আগে দেখেছি। কিন্তু হাতি এখানে এসে আগাম বার্তা দিয়েছেন, তারা জানাচ্ছে যে আমরা এই এলাকায় আছি, এটা আমার আবাস্থল, এখান দিয়ে আমরা আসা যাওয়া করি। এতে প্রমাণিত হয় হাতি এই এলাকায় সবসময় থাকে এবং আসা যাওয়া করে।

