শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বন ও পরিবেশ উপদেষ্টার খবর সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৮ মে) দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গেল রাতে উপজেলার দাওধারা-কাটাবাড়ি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার দাওধারা এলাকার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৪৪) ও কাটাবাড়ি এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে হাসেম আলী (৩৫)।
এদিকে, গতকাল ভুক্তভোগী বাসস ও এখন টিভির জেলা প্রতিনিধি জাহিদুল খান সৌরভ থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, তার ভাই নূরে আলমসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয় ৩০ থেকে ৪০ জনকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পাহাড়ে অবৈধভাবে গাছ কাটা, বালু ও পাথর উত্তোলন এবং পাশের সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারির সাথে স্থানীয় কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। এ বিষয়ে উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করা হলে, প্রধান আসামীর নেতৃত্বে কয়েকজন সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এরপর ঘটনার ভিডিও বিশ্লেষণ করে দোষীদের চিহ্নিত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাংবাদিকেরা জানান, গত সোমবার উপজেলার দাওধারা-কাটাবাড়ি এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সেখানে সাংবাদিকেরা ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন এবং বনের মধ্যে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টার অবস্থান জানতে চান। এ প্রশ্ন শুনে সেখানে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে উপদেষ্টা স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে গাড়িবহর নিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারী ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের ধাওয়া দিয়ে ঘিরে ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। হামলায় সাংবাদিক জাহিদুল খান সৌরভ, সময় টিভির ক্যামেরাপারসন বাবু চক্রবর্তী, বাংলাদেশ খবরের শাহরিয়া শাকিরসহ ছয় সাংবাদিক আহত হন।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চলছে।


