শেরপুরের গারো পাহাড়ে সিনেমার শুটিং, হাতি চলাচলে বিঘ্ন

0
79
ফাইল ছবি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের চলছে সিনেমার শুটিং চলছে। এ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ওই সিনেমার চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। তাদের একটি শুটিং টিম গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার গারো পাহাড়ি বিভিন্ন লোকেশনে সিনেমাটির দৃশ্য ধারণ করছেন। কিন্তু পরিবেশবাদীরা বলছেন, বনের ভেতরে শুটিং কোনভাবেই কাম্য নয়। এর ফলে হাতি চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি বনের অনেক কীটপতঙ্গ, সাপসহ ছোট-বড় অনেক প্রাণী ভয়ে অন্যত্র মুভ করতে পারে।

জানা গেছে, নতুন ওই সিনেমার নাম ‘শাপলা শালুক’। নতুন এই সিনেমার শুটিংয়ের জন্য শেরপুরের গারো পাহাড়কে মনোনিত করা হয়। সেজন্য একটি টিম বর্তমানে বিভিন্ন স্পষ্টে দৃশ্য ধারণ করছেন। এই সিনেমায় বুবলীর বিপরীতে অভিনয় করছেন অভিনেতা আব্দুন নূর সজল।

অভিনেতা নায়ক সজল বলেন, গত ৯ দিন ধরে আমরা গারো পাহাড়ে শুটিং করছি। এখানে প্রায় সময়ই বন্যহাতি শুটিং স্পষ্টে এসে হানা দিচ্ছে।

নায়িকা বুবলী বলেন, গারো পাহাড়ের লোকেশনে আগে কখনও শুটিং করিনি। এখানে সুন্দর লোকেশন ও খুবই নিরিবিলি পরিবেশ এখানে।

ছবির নির্মাতা লাজুক জানান, সিনেমাটি অ্যাকশন, রোমান্টিক এবং পুরোপুরি বাণিজ্যিক ধাঁচের। কিছুটা ক্লাসিক্যাল ঘরানার ছোঁয়াও রয়েছে। তাই সিনেমা প্রেমীদের নিখুঁত বিনোদন দিতে আমরা গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্পষ্টে আমরা শুটিং করছি।

সিনেমাটিতে সজল-বুবলী ছাড়াও অভিনয় করছেন সুমন আনোয়ার, আয়মান শিমলা, দিলরুবা দোয়েল, রফিকুল রুবেল, বাপ্পী প্রমুখ।

তবে, পরিবেশবাদীরা বনের ভেতরে শুটিং কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

ডিপ ইকোলজি এবং স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, বনের ভেতর শুটিং যা কোনভাবেই কাম্য নয়। বনের ভেতরে শুটিংয়ের শব্দে এবং শুটিং দেখতে আসা লোকজনের কারণে বনের অনেক কীটপতঙ্গ, সাপসহ ছোট-বড় অনেক প্রাণী ভয়ে অন্যত্র মুভ করতে পারে। এছকড়া অনেক ছোট ছোট প্রাণী মারা যেতে পারে। শুধু তাই নয়, এসব কারণে অনেক প্রাণী ট্রমায় ভুগবে। বনে কোন শুটিং কাম্য নয়, যদি বনের ভেতরে শুটিং করা হয় তাহলে সেটি বন্ধের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া উচিত।

রিচার্স অ্যান্ড কনজারভেশন অব এলিফ্যান্ট বাংলাদেশের সভাপতি আসিফুজ্জামান পৃথিল বলেন, গারো পাহাড়ের শেরপুর অঞ্চলে হাতির সংখ্যা অনেক বেশি। এখানে রাতে এবং দিনে প্রায় সময় হাতির দলগুলো ঘুরাফেরা করে। বনে খাবারের পাশাপাশি লোকালয়েও খাবার খোঁজে। এমনেই কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক হাতিগুলোকে বিরক্ত করে আসছে। এরমধ্যে বনের ভেতরে শুটিং, যা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা আমি বলবো মারাত্মক হুমকি। কারণ, এখানে শুটিং, শুটিং দেখতে আসা লোকজন এবং শব্দ সবকিছু মিলিয়ে হাতিগুলোকে উত্যক্ত করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, বনের মধ্যে শুটিং হচ্ছে_এটা আগে জানতাম না। কিছুক্ষণ আগে সংবাদ পেয়েছি। আমি ঘটনাস্থলে যাবো, যদি বনের ভেতরে শুটিং হয় সেটি যথাযথ জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যদি বন ছাড়া শুটিং হয়, তাহলে সেটা অন্য বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here