পাকিস্তানে জেল থেকে পালালো দুই শতাধিক কয়েদি

0
71
ছবি: সংগৃহীত

কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ-প্রবাদটি যেন হুবহু মিলে গেল পাকিস্তানের করাচির এক জেলখানায়! একদিকে ভূমিকম্পে আতঙ্কিত গোটা শহর, অন্যদিকে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেলখানা থেকে পালিয়ে যায় ২১৬ জন বন্দি!

সোমবার করাচিতে ভূমিকম্প আঘাত হানার সময়, জেল কর্তৃপক্ষ বন্দিদের সুরক্ষার কথা ভেবে অস্থায়ীভাবে ব্যারাকের বাইরে নিয়ে আসে। কিন্তু সেই ভালো উদ্যোগই পরিণত হয় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলায়। বাহিরে আনা প্রায় ৬০০ বন্দির ভিড়ে হঠাৎই গেট ভেঙে পালিয়ে যায় ২১৬ জন। এই ঘটনায় আহত হন তিনজন ফ্রন্টিয়ার কর্পস সদস্য, একজন জেল স্টাফ এবং এক বন্দি নিহত হন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো।

জেলের পরিচালক জানান, পালিয়ে যাওয়া বন্দিরা মূলত সার্কেল ৪ ও ৫-এর কয়েদি ছিলেন। ভূমিকম্পের সময় তাদের বাইরে আনা হলে বিশৃঙ্খলার সুযোগে পালিয়ে যান তারা। পরে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে জেলের দেয়াল ধসে পড়ার কথা বলা হলেও বন্দিরা মূল ফটক দিয়েই পালিয়ে যায়।

সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া-উল-হাসান লাঞ্জার বলেছেন, পলাতক সব কয়েদিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের ধরতে তাদের নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশে অভিযান চলছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, কারা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিন্ধু পুলিশের আইজি গুলাম নবি মেমন জানিয়েছেন, মালির জেলে অনেক মাদক সংশ্লিষ্ট ও মানসিকভাবে অস্থির কয়েদি রয়েছেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন—তাদের অধিকাংশকেই পুনরায় আটক করা সম্ভব হবে। তার দাবি, এই পালানোর ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত নয়, তবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

জেল সূত্রের মতে, ঘটনার সময় মালির কারাগারে ৬,০২২ জন বন্দি ছিলেন। এরমধ্যে ৮০ জনের বেশি পালিয়ে যাওয়া বন্দিকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো ১৩৫ জনের বেশি কয়েদি পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here