গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে নিজ শয়নকক্ষ থেকে এক নবদম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাদের। তবে, তাৎক্ষণিক এ ঘটনার কেনো কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের ডাকেরপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি থেকে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ঝুলতে থাকা মরদেহ উদ্ধার করে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ।
ওই নবদম্পতির নাম রাসেল মিয়া (১৮) ও তার স্ত্রী জুঁই খাতুন (১৫)। রাসেল ওই গ্রামের জাকিরুল ইসলামের ছেলে এবং পেশায় রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
বিষয়টি মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী ভুট্টু। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি। রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, রাসেল গলায় গামছা ও জুঁই খাতুন ওড়না ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে তাদের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাতে বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা জানান, রাসেল ও জুঁইয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় তিন মাস আগে তারা পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক ও সুখেই কাটছিল। গতকাল (৩ জুন) দুপুরেও তাদের একসঙ্গে পুকুরে গোসল করতে দেখা গেছে।
চেয়ারম্যান আরও জানান, রাতে তারা স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে রাসেলের মা রাশিদা বেগম ছেলেকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেন। তখন তিনি দেখেন, ঘরের বাঁশের ধর্ণার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় রাসেল ও জুঁইয়ের মরদেহ ঝুলছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

