শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত

0
66
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কি‌শোরগ‌ঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এবার ছিলো ঈদুল আজহার ১৯৮ তম জামাত। ঈদের জামাত শুরু হয় সকাল ৯টায়। এই জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। জামাত‌কে ঘিরে নেয়া হয়েছিলো নিশ্ছিদ্র নিরপত্তা ব্যবস্থা।

কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের অবস্থান। প্রতিবছর ঈদের নামাজে মুসল্লিদের ঢল নামে এই ময়দানে। এবার ১৯৮ তম ঈদের জামাত শুরু হয় সকাল ৯টায়। এর আগেই মুসল্লিরা দলে দলে ঈদগাহে আসতে থাকেন।

বড় জামাতে নামাজ পড়লে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, এমন বিশ্বাসে প্রতি বছর ঈদের জামাতে এখানে লাখো মুসল্লির ঢল নামে। বংশ পরম্পরায় এখানে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন অনেকে। এবারও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এই মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। শোলাকিয়া মাঠের নিয়ম অনুযায়ী জামাত শুরুর ৫ মিনিট ও ২ মিনিট আগে বন্দুকের গুলি ছুঁড়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ঘোষণা করা হয়।

ঈদের জামাতকে ঘিরে নেয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চার স্তরের নিরাপত্তা বল‌য়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ-র‌্যাব ছাড়াও থাকছে ২ প্লাটুন বিজিবি। ছিলো সেনাবাহিনীর টহল। মাঠে প্রবেশের আগে মুসল্লিদের চারটি নিরাপত্তা চৌকি পার হতে হয়। প্রতিটি প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশির পর আর্চ ওয়ের ভেতর দিয়ে মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। ৬৪টি ক্যামেরা, ৭টি ড্রোন ও ৭টি লাইভ ক্যামেরায় মনিটর করা হয় মাঠের ভেতর ও চারপাশ। প্রস্তুত ছিলো র‌্যাবের স্নাইপার ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট।

ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার মো. কাজেম উদ্দিন কাজেম উদ্দিন জানান, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে মুসল্লিরা যাতে নিরাপদে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরতে পারে সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিলো।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত জানান, শোলাকিয়া ঈদ জামাতের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ছিলো। আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুসল্লি এখানে নামাজ পড়েছেন। দূরের মুসল্লিদের জন্য শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করে। ঈদের দিন সকাল ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে এবং পৌনে ৬ টায় ভৈরব থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ পৌছায় সকাল ৮টায়। জামাত শেষে ট্রেনদুটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

১৮২৮ সালে এই মাঠে এক লাখ ২৫ হাজার বা ‘সোয়া লাখ’ মুসল্লি এক সাথে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামে পরিচিত। প্রতি বছর ঈদের সময় এই মাঠে লাখ লাখ মুসল্লি নামাজ পড়েন। তবে কোরবানির আনুষ্ঠানিকতার কারণে ঈদুল আজহায় লোক সমাগত হয় কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here