ঈদের ছুটিতে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে উপচে পড়া দর্শনার্থীদের ভিড়

আজ সোমবার রাতে সরজমিনে পঞ্চগড় রেলস্টেশনে এমন দর্শনার্থীদের ভিড়ের চিত্র দেখা যায়। এ ভিড় চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।

0
81

ঈদুল আজহার ছুটিতে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর বিনোদন কেন্দ্রে। ঈদের দিন থেকে শুরু হয়ে প্রতিদিনই এখানে দেখা যাচ্ছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

আজ সোমবার রাতে সরজমিনে পঞ্চগড় রেলস্টেশনে এমন দর্শনার্থীদের ভিড়ের চিত্র দেখা যায়। এ ভিড় চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।

জানা যায়,পঞ্চগড় শহরে বিনোদনের জায়গার স্বল্পতার কারণে ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে মানুষ ভিড় করছেন এই স্টেশন এলাকায়। শিশুদের জন্য অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে নাগরদোলা এবং ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিমসহ নানা ধরনের খাবারের দোকান। এই আয়োজন শিশুদের কাছে হয়ে উঠেছে আনন্দের বড় উৎস।

স্টেশনের নতুন অবকাঠামো, খোলা পরিবেশ ও সহজে প্রবেশযোগ্যতা একে দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। কেউ তুলছেন সেলফি, কেউ পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলে রাখছেন স্মৃতির অ্যালবামে।

ঘুরতে আসা কলেজছাত্রী কেয়া আক্তার বলেন,“পঞ্চগড়ে বিনোদনের জায়গা কম। তবে রেলস্টেশন এলাকাটি এখন ঘুরে বেড়ানোর জন্য দারুণ জায়গা হয়ে উঠেছে। সবার সঙ্গে দেখা হচ্ছে, ছবি তোলা হচ্ছে একটা মিলনমেলা বলা চলে।”

আলমগীর কবির নামের এক তরুণ বলেন, “এখানে এসে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলো। স্টেশনের নতুন অবকাঠামো বেশ সুন্দর হয়েছে। আশপাশে খাবারের দোকানও আছে, সময় কাটানোর জন্য ভালো জায়গা।”

শিশু রাবিয়া জাহান খুশিতে বলে, “আমি নাগরদোলায় চড়েছি! খুব মজা লেগেছে! সন্ধ্যার পর থেকে মানুষের ভিড় বাড়ে এখানে।”

ঈদের ছুটিতে পঞ্চগড় শহরের তুলারডাঙ্গার করতোয়া নদীপাড়, ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন নদীতীর এবং তালামার হিমালয় বিনোদন পার্কেও দর্শনার্থীদের দেখা গেছে। তবে এসব জায়গার চেয়ে রেলওয়ে স্টেশন এলাকাতেই ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়।

জেলা প্রশাসক সাবেত আলী জানান, “ঈদের সময় যেহেতু জনসমাগম বেড়ে যায়, তাই দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে।”

রেলস্টেশন এলাকাটি আধুনিকায়নের পর এখন শুধু ট্রেনযাত্রীদের গন্তব্য নয়, বরং হয়ে উঠেছে শহরের মানুষের জন্য আড্ডা ও আনন্দ বিনোদনের অন্যতম স্থান। ঈদের সময় এ জায়গাটি যেন রূপ নেয় এক খোলা উৎসবের মাঠে, যেখানে মিশে যায় শহরের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here