রাজধানীর পান্থপথ সেল সেন্টার মিলনায়তনে শনিবার দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির দাবি নিয়ে স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চায়নার মতো দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, বিশৃঙ্খলামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটির ১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরীর প্রাণনাশ চেষ্টার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এবং ঢাকার সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী নাজিমুদ্দিন আল আজাদ, সাবেক বিচারপতি ড. মো. আবু তারিক, সাবেক বিচারপতি ইমদাদুল হক আজাদ, সাবেক আন্তর্জাতিক বিচারক ড. মো. শাহজাহান সাজু, কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, রিহাবের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. শামছুদ্দিন, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ তোশারফ আলী, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদের সহোদর ড. আজিজুল্লাহ এম নুরুজ্জামান নূর, মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা কমান্ডার ড. এস এম শফিকুল ইসলাম কানু, ড. প্রকৌশলী লুৎফর রহমান, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামস এ খান, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) কামরুল, পারভীন নাসের খান ভাসানী, নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী, নাগরিক ভাবনার আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান, লে. কর্নেল (অব.) আবু ইউসুফ যোবায়ের উল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন ওমর ফারুক বিএন (অব.), অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দীন ইলিয়াস, দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটি ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা শওকত আলী খান, উইং কমান্ডার (অব.) মীর আমিনুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের মন্ডল, সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, মেজর (অব.) মোহাম্মদ ইমরান, মো. আব্দুর রহিম, মিসেস মরিয়ম বিবি, সাবেক যুগ্ম জজ ড. সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘ভয় করলে আপনি শেষ, সাহস করলে আপনিই বাংলাদেশ। দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে ইনশাআল্লাহ।’
তারা আরও বলেন, ‘৫২, ৬৯, ৭১ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশে জাতীয় বেঈমান, মুনাফেক, লুটেরা, সুযোগ সন্ধানী আমলা দুর্বৃত্ত, ব্যবসায়িক দুর্বৃত্ত, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের রক্ষার আপস-মীমাংসা দেশের মজলুম জনগণ মেনে নেবে না।’
স্বৈরশাসকমুক্ত নৈতিক মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটির জাতির মুক্তির সনদ ১১ দফা-
১. দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা।
২. সরকার পদ্ধতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কার কার্যকর করা।
৩. আইন ও বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন কার্যকর করা।
৪. শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য জাতীয় শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন কার্যকর করা।
৫. সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার কার্যকর করা।
৬. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তকরণ।
৭. সম্পূর্ণ স্বাধীন দুর্নীতি দমন ও প্রবীণ কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন কার্যকর করা।
৮. ভোটার ক্লাবের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রশাসনমুক্ত স্বচ্ছ ভোটাধিকার প্রয়োগ পদ্ধতিসহ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও পুনর্গঠন কার্যকর করা।
৯. স্বাধীন পাবলিক সার্ভিস কমিশন সংস্কার ও পূর্নগঠন কার্যকর করা।
১০. রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দুর্নীতিমুক্ত করাসহ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে সংস্কার ও বিশ্বমানের গঠন।
১১. গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও পত্রিকা মাফিক-সিন্ডিকেটমুক্ত করে সৎ সাহসী, সত্যবাদী, দায়িত্বশীল ও নিবেদিত দেশপ্রেমিক গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক অনুসন্ধানী সাংবাদিকগণের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
সভায় বক্তারা বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণে অন্ধ দলদাসমুক্ত সৎ সাহসী, সত্যবাদী, সকল নিবেদিত দেশপ্রেমিক জনগণকে দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এবং চক্রান্ত থেকে জাতিকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

