ভারতের সাবেক স্পিনার দিলিপ দোশি মারা গেছেন

0
70

ভারতীয় ক্রিকেটে এক সময়ের নির্ভরতার প্রতীক ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার দিলিপ দোশি। ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক মাঠ লর্ডস কিংবা ওভালে ভারতের কোনো ম্যাচ হলে প্রায়শই গ্যালারিতে দেখা যেত তাকে। চলমান অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফিতে থাকতেনই তিনি, যদি না নিয়তি তাকে সরিয়ে না নিত। ৭৭ বছর বয়সে, লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই সাবেক ভারতীয় তারকা। হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘদিন খেলা এই ক্রিকেটার অবসর জীবনে লন্ডনেই স্থায়ী হন। মাঠের বাইরে থেকেও ক্রিকেটবিশ্বে ছিলেন আলোচনার অংশ—বিশেষ করে তার চিন্তাশীল বিশ্লেষণ ও আত্মজীবনী ‘স্পিন পাঞ্চ’-এর জন্য।

ধ্রুপদি ঘরানার বাঁহাতি স্পিনার দোশির মূল শক্তি ছিল তার নিখুঁত ফ্লাইট, লুপ এবং নিয়ন্ত্রণ। ঘরোয়া ও কাউন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলে সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। কারণ তখন ভারতীয় দলে ছিলেন কিংবদন্তি বিষেন সিং বেদি। বেদির অবসরের এক সপ্তাহ পর, ৩২ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে বাজিমাত করেন দোশি—এক ইনিংসে ৬ ও ম্যাচে ৮ উইকেট।

মাত্র ৩৩ টেস্টেই শিকার করেন ১১৪ উইকেট। তিনি ও অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ক্ল্যারি গ্রিমেট হচ্ছেন টেস্ট ইতিহাসের দুই বোলার, যারা ৩০ পেরিয়ে অভিষেক করেও উইকেটের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। ওয়ানডে খেলেছেন ১৫টি, নিয়েছেন ২২ উইকেট।

১৯৮১ সালে মেলবোর্নে চোটগ্রস্ত অবস্থায় ৭৪ ওভার বল করে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ে বড় অবদান রাখেন। ১৯৮২-৮৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ভালো করলেও পরবর্তী পারফরম্যান্স ও অধিনায়ক গাভাস্কারের সঙ্গে ঠান্ডা সম্পর্ক তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দেয়।

প্রথম শ্রেণির ম্যাচ: ২৩৮

মোট উইকেট: ৮৯৮

বাংলার হয়ে উইকেট: ৩১১

কাউন্টি ক্লাব: নটিংহ্যামশায়ার ও ওয়ারউইকশায়ার

ঘরোয়া দল: সৌরাষ্ট্র

রোলিং স্টোনসের রক লেজেন্ড মিক জ্যাগারের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ১৯৭৬ সাল থেকে, যা ক্রিকেটের গণ্ডি পেরিয়ে এক অন্য মাত্রার সম্পর্কের পরিচায়ক। ক্রিকেট বিশ্লেষক ও চিন্তক হিসেবেও দোশি ছিলেন ভীষণ সম্মানিত।

ছেলে নায়ান দোশিও বাঁহাতি স্পিনার ছিলেন। যদিও বাবার মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম লিখতে পারেননি, তবে ঘরোয়া ও কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন প্রায় এক দশক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here