আলোচনার আগে হামলার চিন্তা বাদ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে: বিবিসিকে ইরান

0
61

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি।

বিবিসির লিস ডুসেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানকে জানিয়েছে যে তারা আলোচনায় ফিরতে চায়, তবে আলোচনার সময় আর কোনো হামলা চালানো হবে কি না-এই ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে’ এখনও স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।’

গত ১৩ জুন ভোরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর ১৫ জুন ওমানে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ষষ্ঠ দফার পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা ভেস্তে যায়।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায় তারা।

ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে-এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাখত-রাভানচি বলেন, ‘ইরান ‘শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে’ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারে অটল থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের গবেষণা কর্মসূচির জন্য আমরা পারমাণবিক উপকরণে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তাই আমাদের নিজেদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’

উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমৃদ্ধির মাত্রা বা ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু ‘আপনারা একদমই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবেন না। যদি এতে রাজি না হন, তবে আপনাদের ওপর বোমা ফেলব’-এমন বিষয় তো জঙ্গলের আইন।’

তাখত-রাভানচি বলেন, ‘আলোচনায় ফিরে আসার কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং আলোচনার এজেন্ডা কী হবে তাও স্পষ্ট নয়। যদিও ট্রাম্প এই সপ্তাহেই আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি: আলোচনার সময় আমরা কি আবার কোনো আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি দেখতে যাচ্ছি?’

তাখত-রাভানচি বলেন, ‘এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পরিষ্কার’ হতে হবে। তারা আমাদের কী প্রস্তাব দিচ্ছে যাতে আমরা সেই আস্থার ভিত্তি তৈরি করতে পারি, সেটা জানাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সমালোচনা করছেন, তাদের আগে ‘আমাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়েছে’ সেটার সমালোচনা করা উচিত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলেরও সমালোচনা করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি তাদের আমেরিকার সমালোচনা করার সাহস না থাকে, তাহলে তারা চুপ থাকুক, আগ্রাসনের পক্ষে অবস্থান না নিক।’

তিনি বলেন ‘ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না তা ‘স্পষ্ট নয়’। তবে ইরান এটি বজায় রাখবে ‘যতক্ষণ না আমাদের ওপর কোনও সামরিক হামলা হয়’।’

তাখত-রাভানচি জানান, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা সংলাপ ও কূটনীতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে-আবার যেন বিস্মিত না হই।’

উল্লেখ্য, বিবিসির রিপোর্টার ও উপস্থাপক লিস ডুসেট ইরান থেকে রিপোর্ট করার অনুমতি পেয়েছেন-এই শর্তে যে তার কোনো প্রতিবেদন বিবিসির ফারসি সার্ভিসে প্রকাশিত হবে না। ইরানের এই আইন সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here