শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৯ জুন) এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হওয়ার পর ওই যুবতীকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৩০ জুন) ভিকটিম ওই নারীর মেডিকেল পরীক্ষার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় অস্বাভাবিক আচরণ করার কারণে মেডিকেল পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বারমারী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত জালাল মিয়া (৩৫) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তিনি উপজেলার বুরুঙ্গা কালাপানি গ্রামের জনু মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, প্রায় ২/৩ মাস পূর্বে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতী (২৮) উপজেলার বারমারী বাজারে আসে। তার পরিচয় কেউ জানেন না। সে নিজেও তার পরিচয় ও ঠিকানা বলতে পারেন না। সে সারাদিন ঘুরাফেরা করার পর বাজারের বিভিন্ন দোকানের বারান্দায় রাত্রী যাপন করে আসছিলেন।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, তারা অনেকেই ওই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীকে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করতেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে জালাল মিয়া বারমারী বাজারে এসে ওই যুবতীকে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই বাজারের পাহারাদার রেজাউল করিমসহ কয়েকজন জালাল মিয়াকে হাতেনাতে আটক করে। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয় তারা। এ বিষয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায়নি।
এদিকে, জালাল মিয়াকে আটকের পর তাকে উত্তম মাধ্যম দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে থানা পুলিশ গত শনিবার রাতে ধর্ষিতা যুবতীকে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় বাজারের পাহাড়াদার রেজাউল করিম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডাঃ তাহেরাতুল আশরাফি বলেন, ভুক্তভোগী ওই যুবতী বর্তমানে শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন। সোমবার ভিকটিম ওই নারীর মেডিকেল পরীক্ষার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় অস্বাভাবিক আচরণ করার কারণে মেডিকেল পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আগামীকাল মঙ্গলবার (১ জুলাই) আবারও ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষার চেষ্টা করা হবে।

