পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড নেসকোর প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ভজনপুর বাজার এলাকায় উপজেলার বুড়াবুড়ি, ভজনপুর ও দেবনগড় ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রিপেইড মিটার প্রকল্পটি পূর্ববর্তী সরকারের একটি অমানবিক ও জনবিরোধী সিদ্ধান্ত। বক্তারা অভিযোগ করেন, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। একে “ডিজিটাল লুটপাটের কারখানা” বলে উল্লেখ করে তারা বলেন, এই মিটার সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে৷ আগে শহর,বিভাগ,জেলা,পৌরসভা,ইউনিয়ন ও পরে ওয়ার্ড বা গ্রাম পর্যায়ে স্থাপন করা হউক। কিন্তু সবার আগে গ্রামে এই মিটার চালু হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো৷
ভজনপুর পাথর-বালি সরবরাহকারী ব্যবসায়ী ও কল্যাণ সমিতির সভাপতি হামিদুল হাসান লাবু বলেন,“দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমরা অবহেলিত ছিলাম। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা সবক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। নতুন সরকার আসার পর আমাদের আশার আলো দেখতে শুরু করি, কিন্তু এই প্রিপেইড মিটার সেই আশায় পানি ঢেলে দিতে আসছে । অসাধু কর্মকর্তা আর পুরনো স্বৈরাচার সরকারের দোসররা এখনো সাধারণ মানুষকে শোষণ করতে বসছে। আগে শহর,বিভাগীয় শহী,পৌরসভায় হউক পরে গ্রামে করুক৷ কারন গ্রামের গরীব মানুষরা এসব সহজে বুঝবে না৷ আগে সচেতনতা তৈরি করে পরে এই মিটার বসালে ক্ষতি কি
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, তেঁতুলিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জাকির হোসেন, ছাত্রনেতা আল-আমিন জীবন, নাঈমসহ আরও অনেকে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন এবং তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বক্তারা জানান, দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

