স্বপ্না আক্তারের ‘চাঁদাবাজি ও অপ-সাংবাদিকতায়’ সংবাদ সম্মেলন

0
99

সাংবাদিকতার নামে স্বপ্না আক্তার স্বর্ণালি শাহ ও তার দলবলের ‘অপপ্রচার ও চাঁদাবাজিতে’অতিষ্ঠ হয়ে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নীলফামারী জেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বাসিন্দারা। গতকাল বুধবার ইউনিয়নের বাসিন্দারা বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত ৮ জুলাই স্বপ্না ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে অন্তত তিনজনের কাছে চাঁদাবাজি করেছেন। ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি এই প্রতিবেদককে জানান, নিজের উঁচু জমির বালু তিনি নিচু জমিতে তুলছিলেন। এ সময় স্বপ্না আক্তার ও তার দলবল ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন।

এ ছাড়া একই এলাকায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক তরুণী (ববিতা রানি) অবস্থান করলে স্বপ্না আক্তার ও তার দলবল উভয় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, স্বপ্না আক্তার ও তার দলবল ৮ জুলাই অর্থের বিনিময়ে যুবকের বাড়িতে অবস্থান করা ববিতাকে জোরপূর্বক বের করে আনেন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য জগদীশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ নিয়ে তরুণীর পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা ক্ষেপে যান স্বপ্না আক্তারের ওপর। সেই সময় জনতা উত্তেজিত হলে স্বপ্নার দলবল আগেই পালিয়ে যায়। এ সময় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানের হস্তক্ষেপে ‘রক্ষা পান’ কথিত এই সাংবাদিক।

তবে ঘটনাস্থল থেকে ফেরার পরেই হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অপপ্রচার শুরু করে স্বপ্না ও তার দলবল। স্বপ্না তার নীলফামারী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি পদের জোরে স্থানীয় ও ভুঁইফোড় কিছু মিডিয়ায় ‘নাবালিকার বিয়ে ঠেকাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন’ বলে সংবাদ প্রকাশ করছেন।

তবে ববিতা রানীর জন্মসনদে দেখা যায়, তার বয়স ১৮ পেরিয়েছে এবং পরবর্তীতে দুই পরিবারের সম্মতিতে ইতোমধ্যে বিয়েও হয়েছে ববিতার।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ববিতা বলেন, স্বপ্না ও তার দলবল ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে আমাকে যুবকের (বর্তমানে স্বামী) বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী আমিনুর রহমান বলেন, এই ঘটনার পর আমরা গ্রামের বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি নেতারাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে বসি। সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নিই নিরাপত্তার স্বার্থে ওই মেয়েকে পুলিশ হেফাজতে কিংবা পরিবারের কাছে পাঠানোর। কিন্তু ওই কথিত সাংবাদিক দাবি করছিলেন তাকে স্থানীয় এক মেম্বারের কাছে হেফাজতের রাখার। এ দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম, কেননা ৫ আগস্টের পর থেকে ওই মেম্বার নিজেই পলাতক। তার বাড়িতে কিভাবে এক মেয়েকে আমরা হেফাজতে রাখি?

তিনি আরও বলেন,পরে শুনি ওই কথিত সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ তদন্ত করে সত্যতা পাইনি। তাই মামলাও নেয়নি। সবশেষ মঙ্গলবার শুনি স্বপ্না আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

স্বপ্নার স্বামী সোহেল রানার থানায় দায়ের করা অভিযোগ সম্পর্কে নীলফামারী থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার বলেন, তারা অভিযোগ দিয়েছিল। তবে তদন্তে করে সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এদিকে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে আমিনুর রহমান বলেন, আমি শুনেছি তারা (স্বপ্না ও তার দলবল) ৪০ হাজার টাকা নিয়ে ওই ববিতাকে ছেলেদের বাড়ি থেকে বের করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নেয়। তবে এখন তারা সেটা স্বীকার করবে না।

তিনি আরও বলেছেন, তারা আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে, কিন্তু দেখা গেছে তিনিই আওয়ামী লীগের লোকের সঙ্গে ছিলেন। এসময় তিনি একটি ছবি দেখান।

এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী দিলীপ কুমার নামে এক ব্যক্তি বলেন, নিয়োগের নামে স্বপ্না ও তার দলবল তার কাছে ২৮ লাখ টাকা নিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আমাকে স্বপ্নার বাবা উল্টো দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী এই ব্যক্তি উপস্থিত সাংবাদিকদের আকুতির সঙ্গে বলেন, তিনি এর বিচার চান এবং পাওনা অর্থ ফেরত চান।

শহিদার রহমান নামে স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, স্বপ্না নামে চাঁদাবাজ এই সাংবাদিক আমাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সাংবাদিক ভাইয়েরা আমরা বৃষ্টি উপেক্ষা এখানে এসেছি। আমরা চাই চাঁদাবাজ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, এটা লক্ষীচাপ ইউনিয়নবাসীর দাবি।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি, ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি, এনসিপির নেতাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চেয়ে স্বপ্নার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। এতে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here