স্বপ্নগুলো ট্রাজেডি হয়ে রইলো মাইলস্টোনে

0
113

সব কিছু প্রতিদিনের মত স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। স্কুল আঙিনায় পাখির মত ছোট্ট শিশুদের হৈ চৈ, শিক্ষকদের পাঠদান আর ক্লাস শেষে ঘণ্টার ঠনঠন আওয়াজ বেজে ওঠা।

সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবা-মায়ের হাত ধরে যে শিশুটি এসেছিল স্কুলে, সে কি জানতো আজই তার শেষ দিন! অথবা যে শিক্ষক তাদের ক্লাসে বই খুলে পাঠদানে মনোযোগী, তিনি কি জানতেন আর কিছু সময় পরেই একটি যুদ্ধ বিমান তাদের সব স্বপ্ন পুড়িয়ে দেবে বিস্ফোরণে।

না, কেউই এমন চিত্র কল্পনাতেও ভাবেননি। ভাবার কথাও না। কিন্তু এমনই এক করুণ দৃশ্য বাংলাদেশ দেখেছে, যা বহন করতে পারছেন না কেউই।

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন পর্যন্ত ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৭৮ জন (যে হিসেব সরকারিভাবে দেওয়া হয়েছে) তবে এই তালিকা হয়তো আরও দীর্ঘ হবে।

সে যাই হোক; ঘটনার পর থেকে ধীরে ধীরে এর ভয়াবহতা প্রকাশ্যে আসছে। কি দেখলাম, কি দেখছি- প্রতিটি মুহুর্ত যেনো কাটছে ঝলসে যাওয়া বক্ষে পিতার এক ভয়াবহ যন্ত্রণার মধ্যে। কল্পনায় দেখছি- আগুনের ভেতর থেকে দৌঁড়ে বেড়িয়ে আসছে আমার সন্তান, যার পুরো শরীর ঝলছে গেছে, তবুও সে বাঁচার জন্য ভিড় ঠেলে দিকবিদিক ছুটছে। যখন দেখি সন্তানের খোঁজে দিকবিদিক ছুটছেন মা, তখন আমরা নিজেদের সন্তানদের দিকে তাকাতে পারছি না। এই স্কুলেতো আমার সন্তানও পড়তে পারতো। অথবা আমার সন্তানের স্কুলেও ঘটতে পারত এমন ঘটনা। কি অনিশ্চিত মানব জীবন, কতই না অদ্ভুত!