শেরপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে পুলিশে দিল বিএনপি

0
62

চাঁদাবাজির অভিযোগে শেরপুর সদরের ছাত্রদলের দুই নেতাকে পুলিশে দিয়েছে বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতা-কর্মীরা। বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে সদরের লছমনপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটি বাজার এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়।

আটককৃতরা হলেন- সদরের লছমনপুর ইউনিয়নের বড় ঝাউয়েরচর এলাকার আলতাব হোসেনের ছেলে সবুজ আহাম্মেদ (৩৫) ও কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে আল আমিন ইসলাম সাগর (২৬)।

এদের মধ্যে সবুজ আহাম্মেদ লছমনপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং আল আমিন ইসলাম সাগর বর্তমান সভাপতি ছিলেন। পরে রাতে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, লছমনপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সবুজ আহাম্মেদ ও বর্তমান স্থগিতকৃত সভাপতি আল আমিন ইসলাম সাগর দলীয় কোন কর্মকান্ডে আসেনা। তারা বিভিন্নস্থানে দলের নাম করে চাদাঁবাজি করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে আসছে। তারা তাদের কিছু অনুসারী নিয়ে বৃহস্পতিবার চাঁদার দাবিতে সদরের বলায়েরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে তার পরিষদে লাঞ্চিত করে। পরে লছমনপুর ইউনিয়ন পরিষদে এসে চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেল ভাংচুর করে ও পরিষদের সচিবসহ অন্যদের বের করে দিয়ে পরিষদের ভবনে তালা দেয়। কুসুমহাটি বাজারে আশাপাশের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাদাঁ দাবি করে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ফলে দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় বৃহস্পতিবার রাতে ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতা-কর্মীরা মিলে সবুজ ও সাগরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ ঘটনার পরপরই লছমনপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আল আমিন ইসলাম সাগরকে সভাপতি পদসহ প্রাথমিক সদস্য থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করেছে শেরপুর সদর উপজেলা ছাত্রদল।

বহিষ্কারের বিষয়টি রাতেই নিশ্চিত করেন শেরপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শারদুল ইসলাম মুরাদ ও সদস্য সচিব সুমন আহমেদ। তারা জানান, এর আগে গত ১৭ জুলাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মো. আল-আমিন ইসলাম সাগরের লসমনপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির পদ স্থগিত করা হয়েছিল।

এদিকে এ ঘটনায় লছমনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও মহিলা দলের নেত্রী আলেয়া বেগম বাদী হয়ে সবুজ ও সাগরসহ পাচঁজনকে আসামী করে শেরপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সবুজ আহাম্মেদ, আল আমিন ইসলাম সাগর, ছায়দুর রহমান, নূর শাহ আলম পাপ্পু, নূরনবী ইসলামসহ অজ্ঞাত ৬/৭ জন।

এ ব্যাপারে সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বণিক সমিতির সভাপতি এংরাজ আলী মেম্বার বলেন, সবুজ ও সাগরসহ কয়েকজন মিলে বিভিন্নস্থানে চাদাঁ তুলছে। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হইতাছে। তাই আমরা তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দিলাম।

লছমনপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বলেন, এই ছেলেগুইলার কারণে আমাদের এবং দলের চরম ক্ষতি হইতাছে। আজ পরিষদে তালা দিয়েছে। আরেক চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করেছে।

লছমনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব সফিকুল ইসলাম বলেন, বলায়েরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করেছে। লছমনপুরের চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেল ভাংচুর করেছে। পরিষদে তালা দিয়েছে। ব্যবসায়ী ফারুকের কাছে চাঁদা চাইছে, ইদ্রিস কোম্পানীতে গিয়ে চাঁদা চাইছে। এজন্য আমরা তাদেরকে পুলিশের কাছে দিছি। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, আমাদের পরিষদে চাঁদার জন্য এসব ছেলেরা চাঁদা চাইতে আসে। খুব বিরক্ত করতাছে। আমরা এসব ছেলেদের বিচার চাই।

লসমনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শরিফ আল জায়েদ বলেন, চেয়ারম্যানকে না পেয়ে, আমাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে তালা দিয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবায়দুল আলম বলেন, দুই ছাত্র নেতা আমাদের থানা হেফাজতে আছে। তাদের বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা কাজ চলমান রয়েছে। আজকেই তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here