রাজনীতিতে বোঝাপড়ার অভাব থাকলে তিক্ততা বাড়বে: মির্জা ফখরুল

0
46

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব থাকলে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে তীব্র তিক্ততা সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “দলগুলোর মধ্যে একটা ন্যূনতম বোঝাপড়া থাকা জরুরি। তা না হলে রাজনীতিতে কাঁদা ছোড়াছুড়ি বাড়বে, গণতন্ত্রের অপব্যাখ্যা হবে এবং রাজনৈতিক পরিবেশ আরও কলুষিত হয়ে উঠবে।”

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

গণতন্ত্রে নিজের আস্থার কথা জানিয়ে ফখরুল বলেন, “দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার একটি নতুন সুযোগ এসেছে। বিপ্লব যারা করবেন, তারা বিপ্লবী দল গড়বেন, বিপ্লবী সরকার গঠন করবেন এবং বিপ্লব সফল করবেন।”

তিনি বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকারে যেতে চাই। জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ কাজগুলো করার চেষ্টা করবো। যদি জনগণ গ্রহণ করে, তাহলে আসব, না হলে আসব না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিচারপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রযুক্তিগত ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “মানুষের মনমানসিকতা বদলাচ্ছে, পুরোনো কাঠামোতে রাজনীতি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। চীন ও আমেরিকার উদাহরণ দেখিয়ে বলেন, আমাদের দরকার মুক্ত সমাজ ও মুক্ত রাষ্ট্র গড়া।”

তিনি অভিযোগ করেন, “১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পেলেও এখনো আমরা অভ্যন্তরীণ নানা ‘গোলামির’ বেড়াজালে বন্দি। এই মনস্তত্ত্ব থেকে বেরিয়ে বড় করে ভাবতে হবে।”

গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের তালিকা এখনো তৈরি না করায় অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, “এক বছরের বেশি সময়েও শহীদদের তালিকা করা হয়নি। যারা জীবন দিয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।”

আবেগপ্রবণ কণ্ঠে তিনি বলেন, “গতকাল সাত বছরের এক শিশু এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছে, তার খুলিটা প্লাস্টিকের। এর চেয়ে বড় ত্যাগ আর কিছু হতে পারে না। আমরা যদি সঠিকভাবে দাঁড়াতে না পারি, তবে তাদের সামনে আমরা প্রতারণা করবো।”

রাষ্ট্র সংস্কারে ১২টি মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য ঐকমত্যকে ‘ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেন ফখরুল। বলেন, “যদি এসব মৌলিক বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো যায়, তবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্ভব। এতে রাজনৈতিক দ্বিধা দূর হবে।”

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here