সুনামগঞ্জে বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন পরিবহনশ্রমিকেরা

0
59

সুনামগঞ্জে বাসভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহনশ্রমিকদের সংঘর্ষের জেরে ডাকা ধর্মঘট সোমবার(৪ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জেলা পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল। আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গতকাল ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। অপরদিকে পরিবহনশ্রমিকেরাও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে পরিবহনশ্রমিক নেতা সেজাউল কবির জানান, প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে। শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনার বিচার এবং গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিকের মুক্তি।

প্রসঙ্গত, রোববার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী সিলেটগামী একটি বাসে ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন। শান্তিগঞ্জ এলাকায় বাস থেকে নামার সময় অর্ধেক ভাড়া দেওয়া নিয়ে চালকের সহকারীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই সহকারী এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিলে তিনি বাসের জানালায় মাথা ঠুকে আহত হন।

এই ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীরা একটি বাস ভাঙচুর করেন ও শ্রমিকদের মারধর করে ক্যাম্পাসে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে দুপুরে পরিবহনশ্রমিকেরা সুনামগঞ্জ বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। পরে বিকেল পাঁচটা থেকে তাঁরা ধর্মঘটের ডাক দেন।

ধর্মঘটের কারণে গতকাল বিকেল থেকে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট, ঢাকা বা দেশের অন্য কোনো গন্তব্যে বাস চলাচল বন্ধ ছিল, ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল লতিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেজাউল কবির এবং সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক।

বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং পরিবহনসেবা পুনরায় চালু হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here