ইসলামাবাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও হাইড্রোকার্বন ক্ষাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য ওয়াশিংটন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য এলো।
গত মাসে ওয়াশিংটন এবং ইসলামাবাদ একটি বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে শুল্ক কমবে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।
দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল বলেছেন, ইসলামাবাদ স্থানীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে বেলুচিস্তান প্রদেশে খনি প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য মার্কিন সংস্থাগুলোকে সুযোগ দেবে। সেই সঙ্গে লিজ অনুদানের মতো ছাড়ও দেওয়া হবে।
বেলুচিস্তান প্রদেশটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। রেকো ডিক অঞ্চলে বিশ্বের বৃহত্তম সোনা ও তামার খনিগুলোর মধ্যে একটির অবস্থান।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও হাইড্রোকার্বনসহ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো অন্বেষণ এবং গতিশীল ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য উন্মুখ।’
তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ দমন এবং বাণিজ্যে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার জন্য যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আগের বছরগুলোতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়েছিল। কেননা চীনের উত্থান মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়েছিল। আফগানিস্তানের ব্যাপারেও ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের প্রতি বিরক্ত ছিল, বিশেষ করে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের অধীনে।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এপ্রিলের হামলার পর মে মাসে প্রতিবেশীরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব নিয়েছিলেন।
এদিকে, গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদে সন্ত্রাসবিরোধী সর্বশেষ দফা আলোচনায় অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা। ওয়াশিংটন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

