‘কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় প্রাচীর হয়ে থাকবো’, ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের আবহে মোদির বার্তা

0
47

কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে কখনোই আপস করবে না সরকার। ভারতের স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আবার কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) মোদি জোর দিয়ে বলেন, দেশের কৃষক এবং মৎস্যজীবীদের স্বার্থরক্ষার জন্য তিনি দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি না নিলেও মোদির নিশানায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তির জট এখনো কাটেনি। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির ক্ষেত্রে অন্তরায় মূলত কৃষি এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য নিয়ে দুই দেশের একমত হতে না পারা।

যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত কৃষিপণ্য, দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার তাদের জন্য পুরোপুরি খুলে দিক। কিন্তু তাতে নারাজ নয়াদিল্লি। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চললেও ইতোমধ্যেই ভারতের উপর দু’দফায় মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

এদিন লালকেল্লার ভাষণে মোদি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর সকলের জন্য খাদ্য নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু আমাদের কৃষকেরা আমাদের স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। তাই ভারত সরকার কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করবে না। দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে মোদি।’

‘আত্মনির্ভর ভারত’ নিয়ে সাফল্যের কথা তুলে মোদি বলেন, ‘অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল হওয়া বিপর্যয়ের অন্যতম অংশ। আমাদের স্বার্থরক্ষার জন্য আমাদের অবশ্যই স্বনির্ভর হতে হবে।’

একবিংশ শতাব্দীকে ‘প্রযুক্তি-চালিত শতাব্দী’ বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, তার সরকার সৌর, হাইড্রোজেন এবং পারমাণবিক খাতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নিয়েছে।

মোদির কথায়, আমাদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আমরা অনেক দেশের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সত্যিকার অর্থে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে হলে আমাদের জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করতে হবে।

তিনি বলেছেন, এখন ইতিহাস লেখার সময়। বিশ্ববাজারকে আমাদের শাসন করতে হবে।

দেশটির স্বাধীনতা দিবসে মোদি বলেন, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক স্বার্থপরতা বাড়ছে। এখন আমাদের এগিয়ে যাওয়া এবং লক্ষ্য অর্জনের সময়। অন্যদের ছোট করে আমাদের শক্তি নষ্ট করা উচিত নয়। নিজেদের শক্তি কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সে দিকে নজর দেওয়াই উচিত। আমাদের বৃহত্তর লক্ষ্যের উপর মনোনিবেশ করতে হবে। আমরা চাই, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা স্বদেশী পণ্যের উপর জোর দিন। যদি সরকারি নীতিতে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তবে তা আমাকে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here