একটি সর্বদলীয় ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের (এমপি) দল জরুরি ভিত্তিতে অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি শিশুদের গাজা থেকে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৬ জন এমপি স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে তারা জোর দিয়ে বলেছেন—এই শিশুরা আসন্ন মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাদের সরিয়ে আনার পথে যেকোনো বাধা অবিলম্বে দূর করতে হবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে খাদ্য, পানি ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। এমপিরা শিশুদের সরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পর্যাপ্ত অর্থায়নেরও দাবি জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।
লেবার পার্টির এমপি ও চিকিৎসক ড. সাইমন ওফার উদ্যোগে পাঠানো এই চিঠি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উদ্দেশে লেখা হয়। এতে বলা হয়, মেডেসিন সাঁ ফ্রঁতিয়ের (ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস/MSF)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুতর আহত শিশু ও জটিল রোগে আক্রান্তদের দ্রুত যুক্তরাজ্যে আনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, শিশুদের সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, আর্থিক বা সুনামের বিষয় বিবেচনা না করে শুধুমাত্র চিকিৎসাগত প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসা শেষে শিশু ও তাদের পরিবার চাইলে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবে বা পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত।
এমপিরা প্রশ্ন তুলেছেন—সরকার শিশু ও তাদের অভিভাবকদের ওপর বায়োমেট্রিক ভিসা যাচাইয়ের যে শর্ত দিয়েছে তা বাস্তবে কতটা সম্ভব। মানবাধিকার সংগঠন এমএসএফ বলেছে, প্রতিটি বিলম্ব মানে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়া।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুতর অসুস্থ বা আহত গাজার শিশুদের দ্রুত যুক্তরাজ্যে নিয়ে গিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা জোরদার করা হয়েছে। একটি সর্বদলীয় টাস্কফোর্সও এ বিষয়ে কাজ করছে।
ইতোমধ্যে ব্রিটেন আঞ্চলিক বিভিন্ন হাসপাতালে গাজার আহতদের চিকিৎসার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে, জর্ডানের সঙ্গে যৌথভাবে আকাশপথে সাহায্য পাঠিয়েছে এবং ইসরায়েলকে স্থলপথে আরও বেশি সাহায্য ঢুকতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পর থেকে প্রায় ২২ মাস ধরে চলমান যুদ্ধে গাজায় ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

