পবিত্র আল-আকসা মসজিদ মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক সম্মানিত স্থান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই স্থানটি বর্বর ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও আগ্রাসনের কারণে বারবার আঘাতের মুখে পড়ছে। আবারও অবৈধ ইসরায়েলি বসতকারীরা দখলীকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত এই মসজিদ কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে ধর্মীয় উসকানিমূলক আচরণ করেছে। সোমবার (১৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
সোমবার সকালে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, একদল অবৈধ ইসরায়েলি বসতকারী আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে। তারা সেখানে ‘তালমুদিক রীতিনীতি’ পালন করে। পুরো ঘটনার সময় তাদের সুরক্ষা দেয় ইসরায়েলি সেনারা। কেন এমন ঘটনা ঘটছে—এর পেছনে আছে দীর্ঘদিনের দাবি ও দখলদারিত্ব। ইহুদি সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে এই স্থানকে “টেম্পল মাউন্ট” বলে মনে করে এবং দাবি করে যে প্রাচীন কালে এখানে দুটি ইহুদি মন্দির ছিল। ফলে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটি প্রায়ই ইসরায়েলি বসতকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে ডজনের বেশি অবৈধ বসতকারী আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। তারা সেখানে ধর্মীয় আচার সম্পাদন করে, যাকে স্থানীয় সূত্রে ‘তালমুদিক রীতি’ বলা হয়েছে। পুরো সময় জুড়ে ইসরায়েলি সেনারা তাদের ঘিরে রাখে এবং সুরক্ষা দেয়। আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের জন্য মক্কা ও মদিনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান। কিন্তু ইহুদি বসতকারীরা এটিকে নিজেদের ঐতিহাসিক দাবি প্রতিষ্ঠার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
আল-আকসা যেখানে অবস্থিত, সেই পূর্ব জেরুজালেম ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল দখল করে নেয়। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে তারা পুরো জেরুজালেমকে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো পর্যন্ত এই দখল ও সংযুক্তিকরণকে স্বীকৃতি দেয়নি।
তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

