নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করল মিয়ানমারের সামরিক জান্তা

0
115

মিয়ানমার আবারও বড় এক রাজনৈতিক মোড়ের মুখে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ, সেনা দমন-পীড়ন, এবং গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের মাঝেই দেশটির জান্তা সরকার জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে এই নির্বাচনের আয়োজনকে আন্তর্জাতিক মহল ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। জনগণ ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের মাত্র ১৭ দিন পরেই মিয়ানমারে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে সেনাশাসিত জান্তা সরকার। দেশটির ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট শুরু হবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে। তবে দ্বিতীয় ধাপের তারিখ পরে জানানো হবে। জান্তার দাবি, এই নির্বাচন চলমান সংঘাত নিরসন ও স্থিতিশীলতার পথ খুলে দিতে পারে। এ কারণে তারা অস্ত্র সমর্পণকারী বিদ্রোহীদের নগদ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু হবে ২৮ ডিসেম্বর থেকে। যদিও দেশজুড়ে তীব্র গৃহযুদ্ধ চলছে এবং সেনাদের নিয়ন্ত্রণ এখনো অনেক জায়গায় দুর্বল। বিশেষ করে গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা গোষ্ঠী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন এখনো দেশের বহু এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এসব অঞ্চলে ভোট ঠেকানো হবে।

২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে জান্তা ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই মিয়ানমার অবিরাম সংঘাতে নিমজ্জিত। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে জনগণের আশঙ্কা, এটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বদলে জান্তার শাসনকে নতুন করে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে, বড় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)-এর নেত্রী অং সান সু চি এখনো কারাগারে আছেন। অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বহু সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সরাসরি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞও নির্বাচনী আয়োজনকে “প্রতারণা” বলে উল্লেখ করে বলেছেন, এর মাধ্যমে মূলত সামরিক শাসনকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র : এএফপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here