পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত, যাত্রীদের দুর্ভোগ

0
86

পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে স্বাভাবিক ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পাটুরিয়া ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। এতে যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নদীতে প্রবল স্রোত, ফেরি স্বল্পতা এবং ফেরি ঘাট এলাকায় নদী ভাঙনের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে। নদী পারাপারের জন্য ফেরির অপেক্ষায় রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন।

সোমবার (১৮ আগস্ট) পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, পাটুরিয়ায় ৫টি ঘাটের মধ্যে ৩, ৪ ও ৫ নং ঘাট আংশিক সচল রয়েছে। এর মধ্যে ৩ নং ঘাটের ১টি পকেট দিয়ে সীমিত আকারে ফেরি লোড-আনলোড করা হচ্ছে। এদিকে নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে ঘাটগুলোকে লো ওয়াটার লেবেল থেকে হাই ওয়াটার লেবেলে উত্তোলন করা হচ্ছে। এসময় ঘাটগুলো সাময়িক বন্ধ থাকে। প্রবল স্রোতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাটুরিয়া ৪ ও ৫ নং ঘাটের একাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ফেরি চলাচল বিঘ্ন ঘটছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্রোতের বিপরীতে ফেরি চলতে আগের তুলনায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। আগে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ৩০-৩৫ মিনিট লাগত; এখন সময় লাগছে ৬০ মিনিটেরও বেশি। তীব্র স্রোতের কারণে ঘাটে পন্টুনে ফেরি ভেড়ানোও অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৬টি ফেরির মধ্যে ৩টি ফেরি স্রোতের কারণে চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং ৪টি ফেরি মেরামতে আছে। বাকি ৯টি ফেরি দিয়ে পারাপার অব্যাহত থাকলেও উভয় ঘাটেই যানবাহনের চাপ বাড়ছে। একদিকে গাড়ির চাপ, অপরদিকে স্রোতের কারণে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। ফলে ঘাটে এসে গাড়িগুলোকে পার করার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে গাড়ি চালক এবং মালিকরা হয়রানি ও ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে ফেরি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ফেরি পার হতে আসা গাড়িগুলো পাটুরিয়া টার্মিনাল এবং সড়কের উপর রাখা হয়েছে। নদী পার হওয়ার জন্য ফেরির অপেক্ষায় রয়েছে এসব যানবাহন। ফেরিতে নদী পার হওয়ার জন্য অনেক যাত্রীকেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জৈনক একজন ফেরির মাস্টার জানান, “৪ কিলোমিটার দূরত্বে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে একটি ফেরি যাতায়াতে ৪০ মিনিটের স্থলে এখন ১ ঘন্টা লাগছে। ফলে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ঘাট এলাকায় গাড়ি জমা হয়ে ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে।”

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সালাম বলেন, “উক্ত নৌরুটটি এখনও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নদীতে স্রোতের কারণে স্বাভাবিক ফেরি সার্ভিস ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। গাড়ি চালকরা ঘাটে এসে ফেরিতে আগে উঠার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করে দেন। এসময় ফেরিতে গাড়ি উঠার রাস্তা বন্ধ হয়ে লোড-আনলোডে অনেক সময় লাগে। স্রোত কমলে এই পরিস্থিতি থাকবে না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here