ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক যৌথ অভিযানে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা সন্দেহে ২০ জন গুপ্তচরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে এবং কারও কারও বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব অভিযুক্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস, সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর নজরদারি, ও গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীদের গতিবিধি নজরে রাখা এই ধরনের স্পর্শকাতর অপারেশনে যুক্ত ছিল। গোয়েন্দা তদন্তের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানি পারমাণবিক বিজ্ঞানী রুজবেহি ওয়াদি-কে মোসাদের হয়ে তথ্য পাচারের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ইরানের অভিযোগ, ওয়াদি ইসরায়েলের হাতে এমন তথ্য তুলে দিয়েছিলেন, যার ফলে ২০২০ সালে নিহত হয়েছিলেন দেশটির অন্যতম পারমাণবিক কর্মসূচির স্থপতি মোহসেন ফাখরিজাদেহ।
সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধের আবহে ইরান জুড়ে ২১,০০০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকশ জনকে বিদেশি সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চালানো এই অভিযানকে তেহরান সরকার “রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছে।
এই ঘটনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতারই প্রতিচ্ছবি নয়, বরং আধুনিক গুপ্তচর যুদ্ধের এক বাস্তব ও ভয়ানক চিত্র। ইরান-ইসরায়েল সেই সংঘাতে যেভাবে কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী ইহুদিবাদী ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু গবেষণাগারে হামলা চালিয়েছিলেন তা রীতিমতো কাপুরুষোচিত।
মোসাদের গুপ্তচরদের দ্বারা সংগ্রহ করা তথ্য উপাত্তেই সেসময় এই হামলা চালিয়েছিলো ইসরায়েলি সেনারা সেই খবর প্রকাশ্যে এসেছে আরও আগেই। এবার এত পরিমাণ মোসাদের গুপ্তচর ইরানে আটক হওয়ার পর সেই খবরের নিশ্চয়তা যেনো বেড়ে গেলো বহুগুণে।

